Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৪৩, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ০০:৪৪, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানের ‘তুরুপের তাস’ ফাত্তাহ

মার্কিন রণতরী ডুবানোর হুঁশিয়ারি খামেনির

মার্কিন রণতরী ডুবানোর হুঁশিয়ারি খামেনির
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেয়ার মতো শক্তিশালী অস্ত্র ইরানের হাতে রয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেয়া এক ভাষণে খামেনি বলেন, একটি বিমানবাহী রণতরী অত্যন্ত বিপজ্জনক মেশিন হতে পারে, তবে তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হলো সে অস্ত্র যা এটিকে সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে দিতে সক্ষম। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনও অস্ত্রের নাম উল্লেখ করেননি, সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা—ইরানের হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিই তার ইঙ্গিতের কেন্দ্রবিন্দু।

ইরানের তুরুপের তাস: ‘ফাত্তাহ’ হাইপারসোনিক মিসাইল

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) ২০২৩ সালে উন্মোচন করে ‘ফাত্তাহ-১’ হাইপারসোনিক মিসাইল। পরবর্তীতে এর উন্নত সংস্করণ ‘ফাত্তাহ-২’ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। ইরানের দাবি, এসব মিসাইল শব্দের চেয়ে বহু গুণ দ্রুতগতিতে উড়তে পারে এবং মাঝপথে দিক পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে, ফলে প্রচলিত রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দেয়া সম্ভব।

হাইপারসোনিক অস্ত্রের মূল শক্তি হলো গতি ও কৌশলগত গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা। যদি এসব সক্ষমতা বাস্তবে কার্যকর হয়, তাহলে সমুদ্রে চলমান বড় আকারের রণতরীগুলোকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে—এমনটাই মনে করছেন কিছু বিশ্লেষক।

বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার

লন্ডনভিত্তিক International Institute for Strategic Studies (IISS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ১০০০ থেকে ১২০০টির মতো জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • নূর (Noor): আনুমানিক ১২০–১৭০ কিলোমিটার পাল্লার অ্যান্টি-শিপ মিসাইল।
  • কাদের (Qader): প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাল্লার উন্নত নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র।

এ ছাড়া ইরানের হাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন, উপকূলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য টর্পেডো। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ‘অসামান্য যুদ্ধকৌশল’ বা asymmetric warfare কৌশল অনুসরণ করে আসছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

ইরানের হুমকির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী নৌ উপস্থিতি বজায় রেখেছে। অঞ্চলটিতে মোতায়েন রয়েছে USS Abraham Lincoln এবং USS Gerald R. Ford-এর মতো আধুনিক বিমানবাহী রণতরী। এসব রণতরীর সঙ্গে থাকে ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার ও সাবমেরিনের সমন্বয়ে গঠিত ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, যা বহুস্তরবিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত।

লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও মিসাইল হামলা প্রতিহত করার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর রয়েছে। উন্নত রাডার, এজিস কমব্যাট সিস্টেম এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশ ও সমুদ্রপথে আসা হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের আছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি।

মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, নাকি বাস্তব সক্ষমতা?

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির বক্তব্য এক ধরনের কৌশলগত বার্তা—যা সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার প্রচেষ্টা। সামরিক শক্তির প্রদর্শন যেমন বাস্তব প্রতিরোধের অংশ, তেমনি এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধেরও উপাদান।

তবে হাইপারসোনিক প্রযুক্তি, পারমাণবিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাত—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক সংযম ও সামরিক হিসাব-নিকাশের ওপর।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে আদাবর থানা ঘেরাও
মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন
বেতন-ভাতা, সরকারি গাড়ি না নেয়ার ঘোষণা কৃষিমন্ত্রীর
২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, দিবেন একুশে পদক
স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার পদে যে ৪ নাম শীর্ষে আলোচিত
ইগনোর করলে ভালো হবে না: রুমিনের হুঁশিয়ারি
আ.লীগ অফিসে পতাকা উত্তোলনের পর অগ্নিসংযোগ, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু
ধামইরহাটে র‍্যালি ও আলোচনা সভায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
মার্কিন রণতরী ডুবানোর হুঁশিয়ারি খামেনির
হাইকোর্টের নির্দেশেও থামেনি যশোরের শার্শার ২০ অবৈধ ইটভাটা
হামজাকে নিয়ে আশাবাদী কোচ ক্যাবরেরা
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী
জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্যে আগুন, ফেসবুকে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ঝড়
নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কে সই ট্রাম্পের