অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক
উগ্র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উত্তাল ভারতে নিহত ২
ফের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য আসাম। পশ্চিম আসামের কোকরাঝাড় জেলায় এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক দাঙ্গা ও অস্থিরতা। টানা সহিংসতায় এখন পর্যন্ত দুজন নিহত হয়েছেন এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের অবরোধে জাতীয় সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) কোকরাঝাড় জেলার গৌড় নগর এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভয়াবহ সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত জনতা শিখনা ভাইহালন ভিস্মিত নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত শিখনা ভাইহালন ভিস্মিত স্থানীয় এক প্রভাবশালী ঠিকাদার বরোদা বসুমতারির জামাই বলে জানা গেছে। তিনি ওই অঞ্চলে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনাস্থলটি কারিগাঁও থানার মাত্র এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে হলেও সহিংসতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অংশ নিয়ে সুনীল মুর্মু নামে আরেক যুবক গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর ফলে সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং বিভিন্ন এলাকায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষুব্ধ জনতা কোকরাঝাড়ের কারিগাঁও অংশে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিক্ষোভকারীরা বিরসা কমান্ডো বাহিনীর দুটি অস্থায়ী ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া সিধু কানু ভবনসহ একাধিক সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকটি দোকানেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।
সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত হত্যা ও দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তত ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হলেও কোকরাঝাড় জেলায় পরিস্থিতি এখনও থমথমে রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























