Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৯, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এপস্টেইন নথিতে কূটনীতিকের মন্তব্য, আলোচনায় মোদিঘনিষ্ঠদের নাম

ভারতীয় আর সাপের মুখোমুখি হলে আগে ভারতীয়কে মারো

ভারতীয় আর সাপের মুখোমুখি হলে আগে ভারতীয়কে মারো
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত নতুন নথিতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এসব নথিতে সাবেক ও বর্তমান বিশ্বনেতা, শিল্পপতি ও কূটনীতিকদের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ, ই-মেইল এবং ব্যক্তিগত মন্তব্যের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। প্রকাশিত তথ্যে বলা হচ্ছে, এপস্টেইনের কাছে অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং দুই হাজারের বেশি ভিডিও ছিলো।

নথিগুলোতে ভারতের প্রসঙ্গও বারবার উঠে এসেছে। বিশেষ করে একটি ই-মেইল ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক জাতিসংঘ দূত, নরওয়ের কূটনীতিক টেরিয়ে রোড-লারসেন ২০১৫ সালে এপস্টেইনকে পাঠানো এক ই-মেইলে প্রকাশ্য বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। ওই ই-মেইলে তিনি লেখেন, 

এ প্রবাদটি শুনেছো? সাপ আর ভারতীয় একসঙ্গে পেলে আগে ভারতীয়কে মারো।

ই-মেইলটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতীয় নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্যটিকে জঘন্য ও বিকৃত মানসিকতার পরিচয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, এ ধরনের মন্তব্যই প্রমাণ করে, কিছু পশ্চিমা অভিজাত শ্রেণির মানুষের মধ্যে ভারতীয়দের প্রতি কতটা ঘৃণা কাজ করে।

এপস্টেইন নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শীর্ষ মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির নামও উঠে এসেছে। ২০১৪ সালে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। নথি অনুযায়ী, ওই বছরের জুন মাসে হরদীপ সিং পুরি ও জেফ্রি এপস্টেইনের মধ্যে ই-মেইল আদান–প্রদান হয়।

ই-মেইলগুলোতে লিংকডইনের সহ–প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা করা হয়। পুরি এপস্টেইন ও হফম্যানকে ভারতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং মোদি সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে হফম্যানকে ভারত সফরের জন্য উৎসাহিত করেন।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে নিবন্ধিত অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও হরদীপ সিং পুরি একাধিকবার নিউইয়র্কে এপস্টেইনের ম্যানহাটনের বাসভবনে যান। রেকর্ড অনুযায়ী, এসব সফর হয় ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি এবং ২০১৭ সালের ১৯ মে।

এ বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় হরদীপ সিং পুরি দাবি করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সব ধরনের যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ ছিলো কেবলমাত্র ব্যবসায়িক ও পেশাগত কারণে।

তবে নথিতে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। একই সময় এপস্টেইন ব্যক্তিগত ই-মেইলে ভারতের প্রতি চরম বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেন। ২০১৪ সালের এক ই-মেইলে তিনি ভারতকে ‘নোংরা’ আখ্যা দিয়ে লেখেন, তিনি ভারতের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই রাখতে চান না। ওই ই-মেইলে ভারতের পরিবেশ নিয়ে তিনি কটূক্তি করেন।

২০১২ সালে বিল গেটসের সাবেক বিজ্ঞান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিকের সঙ্গে ই-মেইল বিনিময়েও এপস্টেইনের ভারতবিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়। নিকোলিক দিল্লি ও পুনেতে আটকে পড়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জায়গাগুলোকে ‘নোংরা’ ও ‘অসহনীয়’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এপস্টেইন সেখানে গেলে ঘৃণা করবেন। জবাবে এপস্টেইন নিজেই লেখেন, ‘ভারত ছাড়ছি, ঘৃণা করি।’

এপস্টেইন নথিতে এমন মন্তব্য ও তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ভারতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তারা এসব যোগাযোগ, মন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১১ জন
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা