অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এখনও সচল
বোমাবর্ষণেও ভাঙেনি ইরানের সামরিক শক্তি: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। বরং দেশটির প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনও অক্ষত রয়েছে এবং অস্ত্রাগারে মজুদ আছে হাজার হাজার ড্রোন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে, যেখানে একাধিক গোপন সূত্রের উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর একটি বড় অংশ এখনও কার্যকর রয়েছে। এমনকি কিছু লঞ্চার হামলায় মাটির নিচে চাপা পড়লেও পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। ফলে সেগুলো আপাতত ব্যবহারযোগ্য না হলেও পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ রয়েছে।
একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, ইরানের এখনও পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সামর্থ্য আছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এছাড়া গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ড্রোন সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনও অক্ষত। আনুমানিক হাজার হাজার ড্রোন—যা মোট সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক—এখনও ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ অক্ষত রয়েছে। বিশেষ করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনও কার্যকর অবস্থায় আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে তুলনামূলক কম হামলা চালানোয় এসব অস্ত্র রক্ষা পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধকে ‘বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের এ তথ্য ভিন্ন চিত্রই সামনে আনছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে আংশিক সাফল্য অর্জন করলেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনও ভেঙে পড়েনি। বরং পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে আরও জটিল ও অনিশ্চিত হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























