Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৫, ৮ এপ্রিল ২০২৬

তেরানের কৌশলে কাঁপছে বিশ্ব অর্থনীতি

হরমুজে টোল বসিয়ে মাসে হাজার কোটি ডলার ইরানের? 

হরমুজে টোল বসিয়ে মাসে হাজার কোটি ডলার ইরানের? 
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েন এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এ সঙ্কট শুধু সামরিক নয়, বরং বিশাল অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশেও রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান এ প্রণালিতে টোল আরোপ করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে পারে, তাহলে দেশটির মাসিক আয় প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিদিন বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করে।

ইরানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজ থেকে গড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ ডলার টোল আদায় করা হতে পারে। সে হিসেবে প্রতিদিনই শত শত মিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব, যা মাস শেষে কয়েক বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে।

তেহরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে ১০ দফার একটি নতুন দাবি উত্থাপন করেছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, পারমাণবিক কর্মসূচির বৈধতা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা।

এদিকে এ সঙ্কটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছে এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলো। ভারত, চীন ও জাপান—এ দেশগুলো তাদের আমদানিকৃত তেলের বড় অংশ এ পথ দিয়ে নিয়ে আসে। বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।

যদিও ভারত সরকার এখনও টোল দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এ অতিরিক্ত ব্যয় আমদানিকারকদের ওপরই পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইনগত দিক থেকেও ইরানের এ পদক্ষেপ বিতর্কিত। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, হরমুজ একটি উন্মুক্ত জলপথ, যেখানে সব দেশের জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে। তবে ইরান এটিকে তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে দাবি করছে, যা ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান এ প্রণালির কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে তা শুধু অর্থনৈতিক সুবিধাই নয়—মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কৌশলগত অবস্থান তৈরি করবে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনা এখন শুধু আঞ্চলিক নয়—বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় এক অনিশ্চয়তার নাম হয়ে উঠেছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

তেলের লাইনে থমকে মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে ১২ কিলোমিটার যানজট
ইরানি রকেট হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত
সংসদে বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রশংসনীয়: স্পিকার
হরমুজে টোল বসিয়ে মাসে হাজার কোটি ডলার ইরানের?
২৮ বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ের শোকজ
তেলের দাম রেকর্ড ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছুঁইছুঁই
তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনে হামলা-ভাংচুর, আটক ২
ইমানী শক্তির কাছে বর্বরতার পরাজয় অনিবার্য: ইরান
গ্যাস সংকটে বন্ধের মুখে ডিএপি সার কারখানা
বিসিবির নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তামিম
হরমুজ ইস্যুতে জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে চীন-রাশিয়ার অবস্থান
ঢেপা নদীতে উৎসবের ঢেউ, বীরগঞ্জে জমজমাট নৌকা বাইচ
বিরোধীদলেও মু‌ক্তিযোদ্ধা আছেন: মেজর হাফিজ
তামিমের কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা আমিনুলের
আলোচনা বিচ্ছিন্ন করলো ইরান, দেশজুড়ে মানবঢাল
মন্ত্রী-এমপিদের পারিবারিক ক্লাব বিসিবি!
আবারও বাড়লো জেট ফুয়েলের দাম