নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধ
হরমুজ যুদ্ধ বিশ্বশক্তি বদলে দিচ্ছে: ইরান হচ্ছে চতুর্থ শক্তিকেন্দ্র
সম্প্রতি বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ছিলো, বৈশ্বিক ক্ষমতা মূলত তিনটি কেন্দ্রের—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে ইরানের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তৈরি পরিস্থিতি এ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরান এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আংশিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সরাসরি জাহাজ ধ্বংস না করলেও হামলার সম্ভাবনা ও বিমার উচ্চ খরচের কারণে তেলের পরিবহন প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করতে ইরানকে পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে না। একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকির মাধ্যমেই তারা বৈশ্বিক তেলের বাজার ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রভাব রাখতে সক্ষম। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রফতানি, শিপিং চুক্তি ও সরকারী নীতি পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা, রাশিয়ার উচ্চমূল্য সুবিধা এবং ইরানের হরমুজ প্রণালিতে লিভারেজের মাধ্যমে বৈশ্বিক শক্তির নতুন শৃঙ্খলা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমস্যা হলো, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক লড়াই ছাড়া এ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আর যদি তারা লড়াই এড়িয়ে নতুন বাস্তবতা মানে, তবে ইরান বৈশ্বিক শক্তির চতুর্থ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ পরিবর্তন সাময়িক নয়; কয়েক বছরের মধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নতুনভাবে গড়ে উঠতে পারে, যেখানে ইরান, চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বেড়ে যাবে এবং মার্কিন ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে।
লেখক:
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, যুক্তরাষ্ট্র।




























