Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৩৩, ৭ জুন ২০২৬

খাদ্যসংকটে কোটি মানুষের জীবন ঝুঁকিতে

খরা-বন্যা-সংঘাতে ঘরছাড়া সোমালিয়ার লাখো মানুষ

খরা-বন্যা-সংঘাতে ঘরছাড়া সোমালিয়ার লাখো মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায় একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। খরা, আকস্মিক বন্যা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দেশটির অন্তত ৬৫ লাখ মানুষ এখন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

সংকটের মুখে পড়ে বহু পরিবারই জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাজধানী মোগাদিশুর বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। তবে সেখানেও নেই স্বস্তি—অপর্যাপ্ত খাবার, পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

মধ্যাঞ্চলীয় বুরহাকাবা এলাকার বাসিন্দা জয়নাব ইব্রাহিম টানা তিন বছরের খরায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। বৃষ্টির অভাবে জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে, ফসল নষ্ট হয় এবং পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তার পরিবারের ১০ সন্তানের মধ্যে চারজন মারা যায়। তিনি জানান, বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে তারা শুকনো ঘাস বিক্রি ও মাটি খুঁড়ে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনও কিছুই আর তাদের রক্ষা করতে পারেনি।

বর্তমানে তিনি ছয় সন্তান নিয়ে মোগাদিশুর কাহদা এলাকায় একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।

একই ধরনের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ৭৭ বছর বয়সী আদান রোবলেও। দীর্ঘ খরায় তার কৃষিজমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। পরে হঠাৎ বন্যায় তার গ্রাম প্লাবিত হয়। একই সময়ে এলাকায় সরকারি বাহিনী ও আল-শাবাবের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তিনি জানান, খাবার, পানি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, তাই তাকে পরিবার নিয়ে পালিয়ে আসতে হয়।

বর্তমানে মোগাদিশুতে ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অস্বাস্থ্যকর ও অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। সেখানে বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার তীব্র সংকট রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৯ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। অর্থসংকটে প্রায় ৫০০টি পুষ্টি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিশু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত তিন মাসেই কিসমায়ো হাসপাতালের বিশেষায়িত বিভাগে ৭০০-র বেশি অপুষ্ট শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জন মারা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এ সংকটকে আরও গভীর করছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে পরিবহন ও পণ্যমূল্যও বেড়ে গেছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত, খরা ও বন্যার সম্মিলিত প্রভাব সোমালিয়াকে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অর্থের অভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সোমালিয়ার পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে লাখো মানুষ প্রতিদিন শুধু বেঁচে থাকার লড়াই করছে।

সবার দেশ ডেস্ক

শীর্ষ সংবাদ:

সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু আজ
খরা-বন্যা-সংঘাতে ঘরছাড়া সোমালিয়ার লাখো মানুষ
বিএনপি একটি অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে: আসিফ মাহমুদ
৬ কোটি টাকার সেতু, ওঠানামায় ভরসা বাঁশের সাঁকো
তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ২৪
কুমিল্লায় বাসচাপায় ৩ অটোরিকশাযাত্রী নিহত
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪৬০০-এর বেশি অবৈধ ভারতীয় নাগরিককে ফেরত
রক্তাক্ত ছবি শেয়ার করে বিচার চাইলেন নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী
সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা ১০১-এ উন্নীত হচ্ছে
ইরানের রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলা, উত্তেজনা বাড়ছে
সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা এনসিপির