Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১২, ১৭ আগস্ট ২০২৫

পাকিস্তানে বন্যায় মৃত্যুপুরি বেশন্ত্রি, দাফনের মানুষও নেই

পাকিস্তানে বন্যায় মৃত্যুপুরি বেশন্ত্রি, দাফনের মানুষও নেই
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে গত ৪৮ ঘণ্টায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বুনের জেলায়। এরই মধ্যে পীর বাবা সাহেব উপজেলার বেশন্ত্রি গ্রামে সামনে এসেছে হৃদয়বিদারক এক চিত্র—এখানে এত মানুষ মারা গেছে যে জানাজা ও দাফনের জন্য স্থানীয় কাউকেই পাওয়া যায়নি। পাশের গ্রাম থেকে লোকজন এসে কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করতে হয়েছে।

গ্রামের মসজিদের ইমাম মওলানা আব্দুল সামাদ বন্যার খবর শুনে পরিবারকে ঘর খালি করার নির্দেশ দিলেও নফল নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন তার বাড়িসহ পুরো গ্রাম পানির তোড়ে নিশ্চিহ্ন। ঘর ভেঙে ভেসে যাওয়ার সময় তার পরিবারের পাঁচজন ভেতরে ছিলেন, তাদের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি।

এদিকে গ্রামটির সাবেক কর্মকর্তা আশফাক আহমদ তখন ছিলেন ইসলামাবাদে। তিনি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিবারকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলেও মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গ্রামে পৌঁছে তিনি দেখতে পান সর্বত্র ধ্বংসস্তূপ আর আহত মানুষের হাহাকার। তার বাড়ির ১৪ জন সদস্যের মধ্যে চারজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে, দুইজন গাছে উঠে প্রাণ বাঁচিয়েছেন, আর নয়জন এখনও নিখোঁজ।

পাশের গ্রাম থেকে ব্যবসায়ী নূর ইসলাম ও প্রবাসী মুহাম্মদ ইসলাম দুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। নূর ইসলাম জানান, দুপুরে গ্রামে পৌঁছে তিনি দেখেন একটি ঘরও অক্ষত নেই। তিনি বলেন, 

সন্ধ্যা নাগাদ আমি অনেকগুলো জানাজায় অংশ নিয়েছি, নিজে অন্তত ছয়টি কবর খুঁড়েছি। 

মুহাম্মদ ইসলামও বলেন, 

পুরো গ্রাম তখন মৃত্যুপুরি, ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধার করে কবর দেয়ার কাজেই সবাই ব্যস্ত ছিলো।

বুনেরের জরুরি উদ্ধার বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার মানুষের জনবসতি ছিল বেশন্ত্রিতে। এখনো বহু নারী-শিশুসহ অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ। অন্যদিকে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (পিডিএমএ) জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াত, বুনের, বাজাউর, তোরঘর, মানসেহরা, শাংলা ও বটগ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজাউর ও বটগ্রামকে ‘সর্বাধিক বিপর্যস্ত জেলা’ ঘোষণা করা হয়েছে।

এরই মধ্যে বন্যার ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে যোগ দিতে যাওয়া একটি এম-১৭ হেলিকপ্টার বাজাউরে বিধ্বস্ত হয়, এতে দুই পাইলট ও তিনজন ক্রু নিহত হয়েছেন।

পুরো অঞ্চল এখনো বন্যার ধ্বংসস্তূপে ভরপুর। আহতদের উদ্ধার ও মৃতদের দাফন করতে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে শত শত মানুষ দিনরাত কাজ করছেন। পরিস্থিতিকে স্থানীয়রা বলছেন ‘কেয়ামতের দৃশ্য।’

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন