পাকিস্তান-ভারতে বর্ষণের তাণ্ডব: প্রাণহানি ২৫০
পাকিস্তান ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যয় নেমে এসেছে। পাকিস্তানে প্রাণহানি ঘটেছে অন্তত ২০০ জনের, আর ভারতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশেই চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান।
পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস
বৃহস্পতিবার (১৪ আগষ্ট) থেকে শুরু হওয়া অতিভারি বর্ষণে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুনের, বাজাউর ও বাটগ্রাম জেলায় বৃষ্টির সঙ্গে মেঘ-ভাঙা বর্ষণ ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। শুধু বুনেরেই এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গাডেজি তহশিলে একই পরিবারের ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে একটি ভবন ধসে পড়ায়।
চাঘারজাই, হিগুকান্দ ও পীর বাবা এলাকায় বহু মানুষ এখনো আটকে আছেন। আল মদিনা নামে একটি হোটেল পুরোপুরি ভেসে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় খাইবার পাখতুনখোয়াতে ১৮৯ জন মারা গেছেন—এর মধ্যে ১৬৩ জন পুরুষ, ১৪ জন নারী ও ১২ জন শিশু।
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা বাড়াল শোকের মাত্রা
ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বাজাউরের সালারজাই এলাকায় যাচ্ছিলো খাইবার পাখতুনখোয়া মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহৃত একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় ভেঙে পড়ে সেটি। এতে দুই পাইলটসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে দুর্যোগ
এ অঞ্চলে ভূমিধসে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। নীলম ও ঝিলম উপত্যকায় প্রায় ৫০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে এবং খাইবার পাখতুনখোয়াকে ‘বিপর্যস্ত এলাকা’ ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে মেঘ-ভাঙা বৃষ্টি
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কিশতোয়ারে মেঘ-ভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসে বৃহস্পতিবার বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৮, আহত হয়েছেন একশোরও বেশি মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও উদ্ধার কার্যক্রমে নেমেছে।
সবার দেশ/কেএম




























