ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে ফ্লোটিলার জাহাজ এখন গাজার উপকূলে
ইসরায়েলের কড়াকড়ি অবরোধ উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীরা ত্রাণবাহী জাহাজ নিয়ে গাজার জলসীমায় প্রবেশ করেছেন। তাদের এই দুঃসাহসিক অভিযানকে ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বৃহস্পতিবার গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা লাইভ ট্র্যাকার-এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ‘মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ ইতোমধ্যে গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে। তবে এটি ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, গাজার উদ্দেশে যাত্রারত অন্তত ২৪টি নৌযান এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর বাধাহীনভাবে অগ্রসর হচ্ছে। এর মধ্যে বাকি ২৩টি নৌযান গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৫০–৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এর আগে বুধবার রাতে ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লোটিলার ১৩টি নৌযান আটকে দেয়। ওইসব নৌযানে থাকা ৩৭ দেশের দুই শতাধিক মানবাধিকারকর্মীকে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লোটিলার কয়েকটি নৌযান নিরাপদে থামিয়ে যাত্রীদের বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রেটা ও তাঁর সঙ্গীরা সুস্থ ও নিরাপদ আছেন বলেও আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্লোটিলার প্রথম বহর গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ১৩–১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিউনিসিয়া ও ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে আরও কয়েকটি নৌযান এতে যোগ দেয়। এছাড়া গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকেও কয়েকটি নৌযান যুক্ত হয়।
ফ্লোটিলার মুখপাত্র সাইফ আবুকেশেক জানিয়েছেন, আটক হওয়া নৌযানগুলোতে অন্তত ২০১ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্পেনের ৩০ জন, ইতালির ২২ জন, তুরস্কের ২১ জন ও মালয়েশিয়ার ১২ জন রয়েছেন। গাজা থেকে প্রায় ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে অবস্থানকালে ইসরায়েলি বাহিনী আটকে দেয় এসব নৌযান।
ইসরায়েলি বাহিনী আটক করা নৌযানগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেইর ইয়াসিন, হিউগা, স্পেক্টার, আদারা, আলমা, সিরিয়াস, আরোরা ও গ্রান্ডি ব্লু। রয়টার্স অবশ্য জানিয়েছে, মোট ১৩টি নৌযান আটক করা হয়েছে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ মূলত গাজার মানুষকে সমুদ্রপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। এই বহরে প্রায় ৪৪ দেশের ৫০০ যাত্রী রয়েছেন, যাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের নাগরিকসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
সবার দেশ/এফএস




























