Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:১৬, ৩ অক্টোবর ২০২৫

লাশের অপেক্ষায় স্বজনরা

ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল ধস: পচা গন্ধ ছড়াচ্ছে, নিখোঁজ ৫৯ শিক্ষার্থী

ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল ধস: পচা গন্ধ ছড়াচ্ছে, নিখোঁজ ৫৯ শিক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায় আল-খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল ধসে পড়ার ঘটনায় আশার আলো প্রায় নিভে গেছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ধসের পর থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা খুঁজছিল পরিবারগুলো। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে উদ্ধারকাজের দিক পরিবর্তন করে মৃতদেহ শনাক্ত ও উদ্ধারের ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জানিয়েছেন, থার্মাল ড্রোনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও আর কোনো জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এখন আমাদের অগ্রাধিকার হলো মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্তকরণ।

ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবার ধ্বংসস্তূপ ঘেরা এলাকায় অবস্থান করছেন। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, কেউ আবার রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকশ মিটার দূর থেকেও পচা দেহের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যা হতাশাকে আরও ঘনীভূত করছে।

প্রথম দিকে আশঙ্কা ছিলো, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে ভেতরে কেউ বেঁচে থাকলে তাদের ক্ষতি হতে পারে। তাই হাতে ইট-পাথর সরানো হচ্ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে উদ্ধারকাজে এক্সকাভেটর আনা হয়েছে। এখনো অন্তত ৫৯ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ।

একজন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 

সবাই মারা গেছে। প্রথম থেকেই অনুমান করা হচ্ছিলো, ধসে পড়া ভবনের ভেতরে আটকে পড়াদের বেশির ভাগই আর জীবিত নেই।

বুধবার রাতে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বৃহস্পতিবার থেকে সে আশার আলো নিভে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাই ‘গোল্ডেন উইন্ডো’—যেখানে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন মরদেহ উদ্ধারের দিকেই মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আহত হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী।

পরিবারগুলোকে শনাক্তের কাজে সহায়তা করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। বাবা-মায়ের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে মরদেহ শনাক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে আছেন ১৪ বছর বয়সী আরিফ আফান্দি। তার বাবা আহমাদ ইচসান ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলেন, 

দুই বছর ধরে ওকে এখানে রেখেছিলাম ভালো মানুষ হওয়ার জন্য। এখনও খুঁজে পাইনি। তবুও আমি আশা করছি, আমার ছেলে বেঁচে আছে।

১৩ বছরের ছেলে নুরদিনকে খুঁজছেন বাবা মুহাম্মদ সোবির। মাত্র চার মাস আগে স্কুলটিতে ভর্তি হয়েছিলো নুরদিন। তিনি বলেন, আল্লাহ চাইলে ও বেঁচে আছে। না পাওয়া পর্যন্ত এখান থেকে যাবো না।

এদিকে সাবেক শিক্ষার্থী হাইয়ি খুঁজছেন নিজের ছোট ভাইকে। ১৫ বছরের আহমাদ সুহাভি ধসে পড়া ভবনের ভেতর আটকে আছেন বলে ধারণা। হাইয়ি বলেন, আমাদের শুধু একটাই চাওয়া—ওকে যেন খুঁজে পাওয়া যায়। মা-বাবা ওকে এখানে পাঠিয়েছিলেন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য।

স্বজনদের হাহাকার আর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ছড়ানো পচা গন্ধ—সব মিলিয়ে শোকাবহ পরিবেশে ছেয়ে গেছে সিদোয়ারজো এলাকা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন