দক্ষিণ সুদানে ‘ত্রিভুজ প্রেম’ নিয়ে বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ১৪ সেনা
দক্ষিণ সুদানে এক নারীকে ঘিরে ব্যক্তিগত বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। দেশটির তেলসমৃদ্ধ সীমান্ত অঞ্চল আবিয়েই বক্সের একটি বাজারে সরকারপন্থী ও বিরোধীপন্থী সেনাদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
বুধবার (৮ অক্টোবর) দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লুল রুয়াই কোয়াং এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার, দক্ষিণ সুদান ও সুদানের সীমান্তবর্তী আবিয়েই অঞ্চলের একটি জনবহুল বাজারে। সেখানে সরকারপন্থী প্রেসিডেন্ট সালভা কিয়িরের সমর্থক সেনাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়েক মাচারের অনুগত বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
কোয়াং জানান, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় ইউনিফায়েড ভিআইপি প্রোটেকশন ফোর্সের দুই কর্মকর্তার মধ্যে তর্কবিতর্ক থেকে—যাদের একজন মাচারপন্থী, অন্যজন কিয়িরপন্থী। প্রথমে এটি ছিলো একান্ত ব্যক্তিগত বিরোধ, কিন্তু পরে তা রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধে রূপ নেয়।
তিনি বলেন, দুজন কর্মকর্তাই একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে মাচারপন্থী কর্মকর্তা তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর উভয় পক্ষের দেহরক্ষীরা গুলিবিনিময়ে জড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত বাজার, চেকপোস্ট ও সেনা ব্যারাকে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় মোট ১৪ সেনা নিহত হয়েছেন—এর মধ্যে ৬ জন মাচারপন্থী এসপিএলএ-আইও বাহিনীর এবং ৮ জন সরকারপন্থী এসএসপিডিএফ বাহিনীর। একজন বেসামরিক নাগরিকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত পাঁচজন সেনা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বলে মনে করা হচ্ছে, তবে তদন্ত শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ সুদানে প্রেসিডেন্ট সালভা কিয়ির ও তার সাবেক উপ-প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচারের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে দেশটি বারবার গৃহযুদ্ধের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি মাচারের বিরুদ্ধে খুন, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে তাকে ঐক্য সরকারের উপ-প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এর পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সম্প্রতি সতর্ক করেছে, দক্ষিণ সুদান আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। শুধুমাত্র চলতি বছরেই সেখানে দুই হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীন হওয়ার পর দেশটি ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যেখানে প্রায় চার লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। শান্তিচুক্তি সত্ত্বেও দক্ষিণ সুদান এখনো স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ঐক্যবদ্ধ সেনা কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি।
সবার দেশ/কেএম




























