প্যারিসে ১০ জনের বিচার শুরু
ম্যাক্রোঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌনতাবাদী হয়রানি
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি ব্রিজিট ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে যৌনতাবাদী সাইবার হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত ১০ জনের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিচার শুরু হয়েছে।
অভিযুক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া দাবি ছড়াচ্ছিলেন যে, ব্রিজিট জন্মের সময় পুরুষ ছিলেন এবং পরে লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন। এসব দাবি ভিত্তিহীন হলেও তা ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রেসিডেন্ট দম্পতিকে ঘিরে নানা বিদ্বেষপূর্ণ আলোচনা তৈরি হয়।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর’ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট দম্পতির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও অবমাননাকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগে ব্রিজিট ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যৌথভাবে মানহানির মামলা দায়ের করেন কয়েক মাস আগে। এরপরই সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্যারিসের ফৌজদারি আদালতে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে আটজন পুরুষ ও দুইজন নারী। তাদের বয়স ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। বিচার শুরুর দিনে ফার্স্ট লেডি ব্রিজিট আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রসিকিউটররা জানান, অভিযুক্তরা শুধু ভুয়া তথ্যই ছড়াননি, বরং ব্রিজিট ম্যাক্রোঁর লিঙ্গ, যৌনতা এবং তার স্বামীর সঙ্গে বয়সের পার্থক্য নিয়ে অশোভন ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন। এমনকি তাদের ২৪ বছরের বয়সের ব্যবধানকে ‘শিশু যৌন নির্যাতন’ হিসেবেও ব্যঙ্গ করে প্রচার চালানো হয় অনলাইনে।
ব্রিজিট ম্যাক্রোঁ গত বছরের আগস্টে এ হয়রানির অভিযোগ প্রথম দায়ের করেন। তার পরই ফরাসি পুলিশ সাইবার অপরাধ তদন্তে নামে। তদন্তের ভিত্তিতে গত ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ মামলাটি শুধু ফ্রান্সেই নয়, ইউরোপজুড়ে সাইবার হয়রানির আইনি সীমানা ও ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























