কমলো উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম
দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ রুটে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল বা জেট ফুয়েলের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১০৪ দশমিক ৬১ টাকা থেকে কমিয়ে ৯৪ দশমিক ৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটারের দাম ৬৮ সেন্ট থেকে কমিয়ে ৬২ সেন্ট করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে বিইআরসি নতুন এ দর ঘোষণা করে। ঘোষণার পর আজ রাত ১২টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করেই এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব নেয় কমিশন। সে সময় ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে জেট ফুয়েলের মূল্য সমন্বয় করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারেও বাড়বে, আর কমলে দেশে দাম কমানো হবে। এর আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বিপিসির বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে জেট ফুয়েল বিক্রির পরিমাণ ছিলো চার লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ টন। পরের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ লাখ ৪১ হাজার ৩৩ টনে, যা আকাশপথে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১ জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির কাছে ন্যস্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩ মার্চ কমিশন প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেট ফুয়েলের দাম কমায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনায় খরচ কিছুটা কমবে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে বিমানভাড়া ও এয়ারলাইন্সগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























