রাশিয়ার তেল কেনায় কড়া বার্তা
ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের
রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি প্রস্তাবিত বিলে অনুমোদন দিয়েছেন, যার মাধ্যমে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা পাবে হোয়াইট হাউজ।
এ আইনের আওতায় ভারতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এ বিলটি ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে যৌথভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকে তেল বা গ্যাস আমদানি করা দেশগুলোর ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপসহ কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
সাউথ ক্যারোলাইনার এ সিনেটর বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার ভাষায়, রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে হলে শুধু মস্কোর ওপর নয়, বরং যারা রাশিয়ার জ্বালানি কিনে দেশটির যুদ্ধ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছে, তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ও ভারত এখনো রাশিয়ার তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে রয়েছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে রাশিয়ার রফতানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেকই কিনেছে চীন। একই সময়ে ভারতের অংশ ছিলো প্রায় ৩৮ শতাংশ।
অন্যদিকে ব্রাজিলও রাশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এ আইন কার্যকর হলে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কসহ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশগুলো, যারা তুলনামূলক সস্তা রাশিয়ান তেলের ওপর নির্ভরশীল, তারা কঠিন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারে। এখন নজর রয়েছে—এ বিল কংগ্রেসে কতটা সমর্থন পায় এবং শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়নের পথে এগোয় কি না।
সবার দেশ/কেএম




























