শেখ হাসিনা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে ব্রিফিং
জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারে জবাবদিহিতা জরুরি: জাতিসংঘ
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বস্তুনিষ্ঠভাবে চিহ্নিত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ। ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার প্রশ্নে জাতিসংঘ সরাসরি কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করলেও, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন এক সাংবাদিক। ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অন্তত এক হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার তথ্য এবং হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে বাংলাদেশের একটি আদালতে শেখ হাসিনার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ মহাসচিব কি ভারত সরকারের প্রতি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফিরিয়ে দিতে আহ্বান জানাবেন কি না।
এ প্রশ্নের জবাবে ফারহান হক সরাসরি কোনও দেশের নাম না করে বলেন, বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ পুরো প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রেখেই পরিচালিত হতে হবে। তার ভাষায়, জবাবদিহিতা অবশ্যই থাকতে হবে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই নিশ্চিত করা জরুরি।
ফারহান হক আরও বলেন, জাতিসংঘ নিজেই জুলাই মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা নিয়ে তথ্য সরবরাহ করেছে। সে কারণে এ ঘটনার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রশ্নটি নতুন নয়। তবে ন্যায়বিচারের পথে এগোতে হলে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই পদক্ষেপ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ব্যাপক প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনার পর থেকেই দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এ প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই জাতিসংঘ মানবাধিকার, জবাবদিহিতা ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
সবার দেশ/কেএম




























