কার ভাগে কত, শুরু তীব্র লবিং
সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোটে টানাপোড়েন
জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ আর জোটের ভেতরে তৎপরতা। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরিক দলগুলোর দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, আসনসংখ্যার ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের একটি স্পষ্ট চিত্র সামনে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত আসন পায় দলগুলো।
এ হিসাবে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার কথা। এর মধ্যে এককভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি সাধারণ আসন, যার ভিত্তিতে তারা পাচ্ছে ১১টি সংরক্ষিত আসন।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ৬টি আসনের বিপরীতে পাচ্ছে ১টি সংরক্ষিত আসন। এ আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন মনিরা শারমিন ও ডা. মাহমুদা মিতু।
এখন বাকি থাকছে ১টি আসন—যা নিয়ে জোটের ভেতরে সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এ একটি আসনের জন্যই শরিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র লবিং।
জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দাবি তুলেছে, তাদের প্রাপ্ত আসনকে জামায়াতের সঙ্গে সমন্বয় করলে তারা অন্তত একটি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে। দলটির নেতারা এ বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
এদিকে যেসব দল নির্বাচনে জয় পায়নি বা অংশ নেয়নি, তারাও পিছিয়ে নেই দাবিতে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)সহ একাধিক শরিক দল অন্তত একটি করে সংরক্ষিত আসন চাচ্ছে।
জোটের ভেতরে যুক্তি হচ্ছে—যারা নির্বাচনে সরাসরি জয় না পেলেও মাঠে কাজ করেছে, প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছে, তাদেরও মূল্যায়ন করা উচিত।
তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জোট নেতারা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন পুরোপুরি রাজনৈতিক সমঝোতা ও অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে—সংরক্ষিত নারী আসনের এ বণ্টন শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং জোট রাজনীতির ভারসাম্য, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কেরও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























