সংস্কার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে সরকার: জামায়াত আমির
ভোটের আগে সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় আসার পর সরকার সে প্রতিশ্রুতিগুলো উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার অতীতের সব ওয়াদা ভুলে গেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার তাদের দলীয় ৩১ দফা ইশতেহারে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। সেখানে উল্লেখ ছিলো, সংবিধানের এমন ধারাগুলো সংশোধনের জন্য একটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে, যা অতীতে সরকারের মনোভাবকে একপক্ষীয় বা ফ্যাসিবাদী হিসেবে গড়ে তুলেছে। কিন্তু বর্তমানে সংস্কারের কথা উঠলেই সরকারি দলের বক্তব্য, সংবিধানে এ ধরনের কোনও ধারার উল্লেখ নেই।
জামায়াত আমির প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানে যদি সংস্কারের কথা না-ই থাকে, তাহলে ৩১ দফা ইশতেহারে তা কেন উল্লেখ করা হয়েছিলো, গণভোট কেন চাওয়া হয়েছিলো এবং জনগণকে আহ্বান কেন জানানো হয়েছিলো। তিনি এটিকে দ্বিচারিতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি নিজেদের দেয়া ওয়াদার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং জনগণের রায়কে অবমাননার শামিল।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, গণভোট সংক্রান্ত বিষয়ে স্পিকার কোনও সিদ্ধান্ত না দিয়ে আলোচনা সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন, যা সংসদীয় ভাষায় ‘টক আউট’ হিসেবে বিবেচিত। এতে জনগণ ও রাজনৈতিক দল মর্মাহত হয়েছেন।
তিনি জানান, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে প্রথম কর্মসূচি ইতোমধ্যে পালন করা হয়েছে এবং এটি আন্দোলনের শুরু মাত্র। ধীরে ধীরে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবিগুলো আদায় করা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তীব্র হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করছে না এবং বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের কাছে তুলে ধরছে না।
ডা. শফিকুর বলেন, রাজধানীর সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা যাচ্ছে, অনেক স্থানে যানবাহন স্থবির, মানুষ নিজেই গাড়ি সরাচ্ছে। তিনি সবাইকে নিয়ে বসে সমস্যার সমাধান করার জন্য বহুদলীয় সংলাপের আহ্বান জানান।
শিক্ষা খাতেও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং ডিজিটাল শিক্ষার ওপর নির্ভর করা বাস্তবসম্মত নয়। এতে শিশুদের ডিভাইসনির্ভরতা বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সবার দেশ/কেএম




























