আলোচনা হবে তিন দিনের মধ্যে
জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিতর্ক
জ্বালানি তেলের সংকট ইস্যুতে জাতীয় সংসদে বিরোধীদল ও সরকারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ–এর মধ্যে এ নিয়ে সরাসরি বিতর্ক তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছে সিদ্ধান্ত নেয়, নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ না করেই আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে এক ঘণ্টা আলোচনা করা হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ অনির্ধারিত বিতর্কের সূচনা হয় বিরোধীদলীয় নেতার একটি মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। প্রস্তাবে তিনি জ্বালানি সংকট এবং এর প্রভাবে জনজীবনে সৃষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে জরুরি আলোচনা চান। একই ধরনের প্রস্তাব দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামও।
তবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রস্তাব দুটি গ্রহণ না করে জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংসদে বিভিন্ন বিধিতে আলোচিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়েছেন। নতুন করে আলোচনা করতে হলে নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করতে হবে।
এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনজীবনের ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ না থাকলে তা দুঃখজনক। তার ভাষায়, সংকট সংসদের ভেতরে নেই, সংকটটা সংসদের বাইরে—অর্থাৎ মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচনার যোগ্য। তবে কার্যপ্রণালি অনুযায়ী অন্য বিধিতে আলোচনা করা সম্ভব। তিনি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারা বা ৬৮ বিধির আওতায় বিষয়টি আলোচনার প্রস্তাব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, জ্বালানিমন্ত্রীর দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই। তার মতে, বাজারে শৃঙ্খলা আনা ও পাচার রোধে সরকার সীমিত আকারে জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে।
তবে এ বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের কারণে আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও কার্যক্রম সীমিত করতে হচ্ছে, যা সংকটেরই ইঙ্গিত দেয়।
বিতর্কের এক পর্যায়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী দলের প্রস্তাব বারবার উপেক্ষা করা হলে সংসদে তাদের থাকার অর্থ কী। জনগণের করের টাকায় সংসদ পরিচালিত হয় উল্লেখ করে তিনি কার্যকর আলোচনা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শেষ পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রস্তাব দেন, কার্যক্রম মুলতবি না করেও নির্দিষ্ট সময় বাড়িয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। এতে সম্মতি জানায় উভয় পক্ষ।
পরবর্তীতে স্পিকার জানান, বিরোধীদলীয় নেতা নতুন করে নোটিশ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সংসদে অর্থবহ আলোচনা নিশ্চিত করা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























