২০১৮ নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের দায় স্বীকার সিইসি নূরুল হুদার
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার কারণে দিনের ভোট রাতেই সম্পন্ন হয়েছিল বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দেন। রাষ্ট্রদ্রোহ ও ভোট কারচুপির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আট দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নূরুল হুদা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন।
জবানবন্দিতে সাবেক সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তবে ভোটগ্রহণ শেষে আমি জানতে পারি, কিছু কিছু কেন্দ্রে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা বাস্তবসম্মত ছিল না। এরপর জানা যায়, অনেক কেন্দ্রে রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়েছে। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সহযোগিতায় এসব ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অন্ধকারে রেখে ভোটের আগেই মাঠ দখলের মাধ্যমে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকরাই দিনের ভোট আগের রাতেই সম্পন্ন করে ফেলে।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচন নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি নানা সময় মিডিয়ার সামনে এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর তার হাতে কিছুই করার ছিল না।
নূরুল হুদা তার ভাগিনা এস এম শাহজাদা সাজুর আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভাগিনা নির্বাচনে অংশ নিলেও আমি কোনোভাবেই তার প্রচার বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। তবে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে সে হয়তো কিছুটা সুবিধা পেয়েছে।
সাবেক সিইসি দাবি করেন, তৎকালীন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে কাজ করেছেন। তার ভাষায়, এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তারাই মূলত রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। সচিব হেলালুদ্দীন সরকারের পক্ষে থেকে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করেন। আমি এককভাবে এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতায় ছিলাম না।
সূত্র জানায়, জবানবন্দি রেকর্ডের পর নূরুল হুদাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন রাজধানীর একটি এলাকা থেকে কে এম নূরুল হুদাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে আরও চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ ছাড়া, গত ২৫ জুন মগবাজার এলাকা থেকে আরেক সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেফতার করা হয়। তার তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগে এই দু'জন সাবেক সিইসির বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
সবার দেশ/এফএস




























