জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ
জয়-পলকের বিচার শুরুর আদেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এর মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
শুনানির শুরুতে দুই আসামির পক্ষে দায়ের করা অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর প্রসিকিউশনের পক্ষে উত্থাপিত তিনটি অভিযোগ পাঠ করেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ। অভিযোগ পাঠ শেষে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলায় দুই আসামির মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন। বুধবার সকালে তাকে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। অপরদিকে, সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম আদালতে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি এই মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম। শুনানিতে তারা দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় জয় ও পলকের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে অভিযোগ গঠন না করে তাদের অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়। তবে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে অভিযোগ গঠনের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, এ মামলায় মোট তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে জুনাইদ আহমেদ পলক সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা হামলা চালায়।
দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেয়া হয়। এর মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেন। এসব হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন আন্দোলনকারী শহীদ হন।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, উত্তরা এলাকায় সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডে সহায়তা ও প্ররোচনা দেন জয় ও পলক। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাযজ্ঞ ছিলো সংগঠিত ও পরিকল্পিত এবং এর পেছনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের আদেশের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করলো। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে এ মামলার বিচার আরও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























