নির্বাচনে সততা নিশ্চিতের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত ১৬ বছরে অস্বচ্ছ ও পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ফলেই একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরাচারের জন্ম হয়। এই প্রক্রিয়ায় জড়িতদের অনেকের করুণ পরিণতি আজ সবার সামনে দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির পথ তৈরি করেছে। সেই অভিজ্ঞতা সামনে রেখে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সামান্যতম বিচ্যুতি বা অনিয়ম যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
নির্বাচনে অনিয়ম, ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘কেন্দ্রীয় আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি এনটিএমসি প্রণীত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’ ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অবাধ চলাচল এবং দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের দিন এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান এবং পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনী প্রস্তুতি সন্তোষজনক। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ—এই তিনটি বিষয় এবারের নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সবার দেশ/এফএস



























