জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩:
‘সাঁতাও’র জয়জয়কার, সেরা আফরান নিশো-পুতুল
দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২৮টি বিভাগে শিল্পী, কলাকুশলী, প্রতিষ্ঠান ও চলচ্চিত্রকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
এবার পুরস্কারের আসরে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছে ‘সাঁতাও’। সিনেমাটি জিতে নিয়েছে সেরা চলচ্চিত্রের সম্মান। একই সঙ্গে এ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন নির্মাতা খন্দকার সুমন। পাশাপাশি এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন আইনুন পুতুল।
অন্যদিকে ‘সুরঙ্গ’ সিনেমায় শক্তিশালী অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন আফরান নিশো। একই সিনেমা থেকে পার্শ্ব অভিনেতা, কৌতুক অভিনেতা, শিল্প নির্দেশনা, চিত্রগ্রহণসহ একাধিক বিভাগে পুরস্কার গেছে।
চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়েছে প্রয়াত কিংবদন্তি নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে। চলচ্চিত্রে তাদের দীর্ঘ অবদানকে স্মরণ করেই এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ‘মরিয়ম’ সিনেমার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন চৈত্রালী সমদ্দার। প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে ‘লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল’ নির্মাণের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন এলিজা বিনতে এলাহী।
অভিনয় বিভাগেও ছিল বৈচিত্র্য। ‘সুরঙ্গ’ সিনেমার জন্য মনির আহাম্মেদ পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার। ‘ওরা সাত জন’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হয়েছেন নাজিয়া হক অর্ষা। ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ খলঅভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন আশীষ খন্দকার। আর শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতার পুরস্কার গেছে শহীদুজ্জামান সেলিমের ঝুলিতে।
শিশু শিল্পী বিভাগে ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী হয়েছেন মো. লিয়ন। একই সিনেমার জন্য বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন আরিফ হাসান ও আনাইরা খান।
সংগীত বিভাগেও ছিল উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতা। ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হয়েছেন ইমন চৌধুরী। শ্রেষ্ঠ গায়ক নির্বাচিত হয়েছেন বালাম, আর শ্রেষ্ঠ গায়িকা হয়েছেন অবন্তী দেব সিঁথি। গীতিকার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন সোমেশ্বর অলি এবং সুরকার হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন প্রিন্স মাহমুদ।
কারিগরি বিভাগেও বিভিন্ন সিনেমা থেকে দক্ষ কলাকুশলীরা স্বীকৃতি পেয়েছেন। কাহিনীকার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন ফারুক হোসেন, চিত্রনাট্যকার হিসেবে নিয়ামুল মুক্তা এবং সংলাপ রচয়িতা হিসেবে যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছেন রায়হান রাফী ও সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা। এছাড়া সম্পাদনা, শিল্প নির্দেশনা, চিত্রগ্রহণ, শব্দগ্রহণ, পোশাক ও সাজসজ্জা, মেকআপ এবং নৃত্য পরিচালনায়ও বিভিন্ন শিল্পী পুরস্কার অর্জন করেছেন।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের পুরস্কার তালিকায় মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা ও কনটেন্টভিত্তিক সিনেমার মধ্যে একটি ভারসাম্য দেখা গেছে, যা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বৈচিত্র্যকেই তুলে ধরে।
সবার দেশ/কেএম




























