Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:১৭, ১১ জুলাই ২০২৬

কী বলছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি

হাসিনার ‘দেশে ফেরার’ ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়

হাসিনার ‘দেশে ফেরার’ ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী মৃত্যদন্ডপ্রাপ্ত আসামি ফ্যাসিস্ট হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছার কথা জানানোর পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বিএনপি বলছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, সেটি তার ব্যক্তিগত ও দলীয় বিষয়। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে এগিয়ে যাবে এবং আদালতের রায়ই চূড়ান্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, 

হাসিনা দেশে ফিরবেন কি ফিরবেন না, সেটি তাদের দলীয় বিষয়। জনগণের প্রত্যাশা, তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর রায় যথাযথভাবে কার্যকর হবে। বর্তমানে আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সরকার বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনও হস্তক্ষেপ করছে না।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, 

এ ঘোষণার পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কোনও পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে। আমাদের আশঙ্কা, বর্তমান সরকারের ভেতরের কোনও অংশ আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।

তবে তার এ অভিযোগকে বিএনপির পক্ষ থেকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, 

শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে তা হবে শুধু আদালতের দেয়া রায় কার্যকরের জন্য। একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির সাক্ষাৎকার দেয়া বা রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার কোনও আইনগত অধিকার নেই।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে এবং এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করা উচিত। তার অভিযোগ, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করছেন।

এদিকে, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রেও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার বক্তব্য, ভাষণ বা বিবৃতি কোনও গণমাধ্যমে প্রচার না করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়ার পর এবারই প্রথম শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তার এ ঘোষণাকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা, বিতর্ক ও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরামের নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এনসিপি
‘শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন’
বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন
শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে: নাহিদ ইসলাম
সিলেট বিভাগে বন্যার শঙ্কা, প্লাবিত ৬০ গ্রাম
হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান
নুহাশ পল্লী জাতীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবি
হাসিনার ‘দেশে ফেরার’ ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়
বন্যায় চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী মোতায়েন
সংসদে কথা বলতে না দিলে বাইরে জনগণের সামনে বলবো: হাসনাত
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট পুনর্বহাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম-ঢাকার নেতৃত্বে মোবারক-সবুজ
জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সাত জেলা প্লাবিত, পানিবন্দি লাখো মানুষ
জন্মশহরে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি