অর্থনীতি ও ব্যাংক খাত নিয়ে কঠোর সমালোচনা এনসিপি আহ্বায়কের
সরকারের ভেতরে ‘এস আলম–সালমান’ হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে: নাহিদ ইসলাম
সরকারের অভ্যন্তরে নতুন করে ‘এস আলম’ ও ‘সালমান এফ রহমান’ তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের মতো বর্তমান সময়েও ব্যাংক খাতে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও লুটপাটের সংস্কৃতি পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে এনসিপির ছায়া বাজেট প্রণয়ন কমিটির আয়োজনে ‘বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের বাজেট’ শীর্ষক আলোচনা সভার সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংক খাতে যে নজিরবিহীন লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে, এখনও সে ধারা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং সরকারের ভেতরে কারা নতুন করে এস আলম বা সালমান এফ রহমান হয়ে উঠছে, তা নিয়ে এক ধরনের অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হতো না, যদি রাজনৈতিক ঐক্য বজায় থাকতো এবং জনগণের আস্থা অর্জন করা যেতো। তার অভিযোগ, জুলাই সনদে থাকা রাজনৈতিক সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হওয়ায় অর্থনৈতিক সংস্কারও পিছিয়ে পড়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলছি, কিন্তু বাস্তবে অর্থনৈতিক সংস্কারের জায়গাতেই পৌঁছাতে পারছি না। ফলে পুরো কাঠামোতে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগের আগে দেশীয় সৎ ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকার যদি বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও ঋণখেলাপিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসায়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি হবে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু বড় করপোরেট গ্রুপ রাজনৈতিক লবিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করছে না। অথচ ছোট ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ বৈষম্যমূলক অর্থনীতি চলতে পারে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার দাবি, এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে।
তিনি সরকারকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংকট মোকাবিলায় দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। এককভাবে কোনো সরকারের পক্ষেই এ অর্থনৈতিক সংকট সমাধান সম্ভব নয়—এর জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও জ্বালানি খাত নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বাজেটে এসব খাতে বরাদ্দ ও সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সবার দেশ/কেএম




























