Sobar Desh | সবার দেশ নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ০৩:৪৮, ৫ আগস্ট ২০২৬

শেষ মুহূর্তে চমকও থাকতে পারে

ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা, ক্লিন ইমেজের নেতৃত্বে জোর

ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা, ক্লিন ইমেজের নেতৃত্বে জোর
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার অপেক্ষায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর বিএনপির হাইকমান্ড নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে যেকোনও সময় নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন কমিটি গঠনে শুধু সাংগঠনিক পদ-পদবি নয়, বরং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, ত্যাগ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে মূল্যায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। বিশেষ করে বিতর্কমুক্ত বা ক্লিন ইমেজের নেতাদের প্রতি হাইকমান্ডের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।

দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। অতীতেও শেষ সময়ে নেতৃত্বে চমক এসেছে। এবারও সে সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন ও আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মতে, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি শুধু সাংগঠনিক পুনর্গঠনের জন্য নয়; বরং আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি, ছাত্রসমাজে সংগঠনের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদলকে সক্রিয় করার কৌশলের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১ মার্চ। এরপর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বর্তমানে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন।

দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, ক্যাম্পাসভিত্তিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার চেষ্টা করছেন অনেকেই।

সভাপতি পদে আলোচনায় আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া

নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামগুলোর একটি বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া।

অর্থনীতি বিভাগের সাবেক এ শিক্ষার্থী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিতর্ক এড়িয়ে চলেছেন এবং সাংগঠনিকভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ধরে রেখেছেন। ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম সমন্বয় এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি হাইকমান্ডের বিবেচনায় রয়েছেন।

২০২২ সালের ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার মাথায় ১৭টি সেলাই দিতে হয় এবং পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়।

২০২৩ সালে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সময় গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। একই বছরের ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ছাত্রদলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংগঠনের কার্যক্রম সমন্বয়ে ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

আলোচনায় আমান উল্লাহ আমান

বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানও সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।

সংগীত বিভাগের সাবেক এ শিক্ষার্থী এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হয়ে প্রায় দুই মাস কারাগারে ছিলেন।

৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সংগঠন পুনর্গঠন এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে ব্যক্তিগত কিছু বিতর্কের কারণেও তার নাম নিয়ে সংগঠনের ভেতরে ভিন্নমত রয়েছে।

মমিনুল ইসলাম জিসানের নামও আলোচনায়

বর্তমান কমিটির এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসানও শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এ শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিক মামলা, গ্রেফতার এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

২০২৩ সালে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। দলীয় নেতাদের দাবি, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং এখন পর্যন্ত বড় কোনও সাংগঠনিক বিতর্কে জড়াননি।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা সালেহ মো. আদনান

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মো. আদনানও আলোচনায় থাকা নেতাদের একজন।

বরগুনা জেলা ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা আদনান ২০১০ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক রাজনীতিতে সক্রিয়। এর আগে তিনি শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

দলীয় সূত্র বলছে, ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি নির্যাতনের শিকার হন এবং চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল। এছাড়া ১/১১-পরবর্তী রাজনৈতিক সময়েও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

ইজাজুল কবির রুয়েলের নামও আলোচনায়

বর্তমান সহ-সভাপতি এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েলও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন।

তিনি এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দুই দফায় পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিক মামলার আসামি হন এবং তিনবার কারাবরণ করেন। দলীয় নেতাদের কাছে তিনি রাজপথের সক্রিয় ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত।

ঢাবির বাইরের নেতারাও আলোচনায়

শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতাদের মধ্য থেকেও কয়েকজন এবার শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।

তাদের মধ্যে বর্তমান সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল অন্যতম। তিনি অতীতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয় এবং একবার গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি এফসিপিএস অধ্যয়ন করছেন।

কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেতও আলোচনায় রয়েছেন। ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, তিনি রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং দুটি মামলায় সাজাও ভোগ করেছেন। ২০১৫ সালের অবরোধ কর্মসূচির সময় পুলিশি অভিযানে গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলেও সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম. রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু, সহ-সভাপতি মো. মনজুরুল আলম রিয়াদ, খোরসেদ আলম সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল, মোস্তাফিজুর রহমান এবং ফারুক হোসেনের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছে।

শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনের সম্ভাবনা

দলীয় দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তালিকায় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সাংগঠনিক ভারসাম্য, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব, ত্যাগ, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিএনপির হাইকমান্ডের লক্ষ্য, এমন একটি নেতৃত্ব গড়ে তোলা, যারা আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে। ফলে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা, ক্লিন ইমেজের নেতৃত্বে জোর
নোয়াখালীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে পিপ্তল ঠেকিয়ে চাঁদাবাজি
জবি ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে: ভিসিকে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতা আটক
যুবদলের নেতৃত্বে আলিয়ার দখল নিলো ছাত্রদল, বিতাড়িত শিবির
জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে আসছে ‘জুলাই২৪’ ডিজিটাল স্মৃতি প্ল্যাটফর্ম
জনগণের সমর্থনেই সফল হয়েছে জুলাই আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রী
চব্বিশের জুলাই রাষ্ট্র রূপান্তরের যুগসন্ধি
ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণই চূড়ান্ত লক্ষ্য: মার্কো রুবিও
‘জুলাই আমাদের ঐক্য, সাহস ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক’
৩৬ জুলাই আজ, জনতার বিজয়ের দিনে মাফিয়া হাসিনার পলায়ন
দেশের বিভিন্ন স্থানে শিবির-ছাত্রশক্তির ওপর ছাত্রদল-যুবদলের হামলা
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জবাবে দাপুটে পাকিস্তান
জাহের আলভীর জামিন লাভ
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল: পুড়ে ছাই ৭ শতাধিক বাড়ি