উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্তে
‘পুশ ইন’ আগ্রাসনকে ‘না’ বলুন: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ১০০ জনের বেশি মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ ঘিরে দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ও সাধারণ নাগরিকরা।
জানা গেছে, গত ৭ মে ভোরে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা, রামগড়, পানছড়ি সীমান্তসহ কুড়িগ্রাম জেলার কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে মোট অন্তত ১০২ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করা হয়। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু, যাদের ভাষায়—তারা ভারতের গুজরাট রাজ্যের বাসিন্দা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, বিএসএফ সদস্যরা তাদের গুজরাট থেকে উড়োজাহাজে করে ভারতের ত্রিপুরায় নিয়ে আসেন, এবং সেখান থেকে সীমান্তবর্তী কয়েকটি স্থানে বাংলাদেশে পুশ ইন করা হয়।
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, গায়ের জোরে বাংলাদেশে পুশ ইন এর নামে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ। আগ্রাসনকে ‘না’ বলার সময় এখন।
আরও পড়ুন <<>> ভারতের ‘পুশ-ইন’ অগ্রহণযোগ্য: নিরাপত্তা উপদেষ্টা
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিটি কেস আলাদাভাবে যাচাই করছি। যদি কেউ বাংলাদেশের নাগরিক বলে প্রমাণিত হয়, তবে তাকে গ্রহণ করা হবে, তবে সেটি ফরমাল চ্যানেলের মাধ্যমে। এভাবে পুশ ইন করা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক শরণার্থী সংকটে ভুগছে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে। এর মধ্যে আবার এ ধরনের 'জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন' আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা দুই দেশের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিকভাবে ভারত সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।
জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার ভারসাম্য বজায় রাখা সময়ের দাবি। সীমান্ত যেন মানবিকতার মৃত্যুস্থল না হয়।
সবার দেশ/কেএম




























