Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৫৭, ৫ জুলাই ২০২৫

জুলাই আন্দোলনের প্রথম অংশ ‘অবশ্যই মেটিকুলাসলি ডিজাইনড’: মাহফুজ

জুলাই আন্দোলনের প্রথম অংশ ‘অবশ্যই মেটিকুলাসলি ডিজাইনড’: মাহফুজ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। শুক্রবার (৪ জুলাই) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, আন্দোলনের প্রথম অংশ 'অবশ্যই মেটিকুলাসলি ডিজাইনড' ছিলো, আর পরের অংশের কৃতিত্ব পুরোপুরি বিপ্লবী ছাত্র-জনতার।

মাহফুজ আলম বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স’ বা সংঘবদ্ধ আক্রমণের সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি মূলত ১৬ বছরের রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদেরই সামাজিক প্রতিক্রিয়া, যাকে তিনি ‘সামাজিক ফ্যাসিবাদ’ আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, মেটিকুলাস ডিজাইনে সমস্যা কোথায়? পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে যদি আগরতলা ষড়যন্ত্র, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭১-এর মার্চের অসহযোগ আন্দোলন এবং বাঙালি-বিহারি দাঙ্গা পরিকল্পিতভাবে সফল হতে পারে, তাহলে ’২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান মেটিকুলাস ডিজাইনে হলে সমস্যা কোথায়?

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পৃথিবীর কোনও বিপ্লব-অভ্যুত্থান পরিকল্পনা ছাড়া হয়নি। জনগণের চেতনা ও উদ্দেশ্যকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যে নিতে গেলে সুপরিকল্পনা বা মেটিকুলাস ডিজাইন ছাড়া বিকল্প নেই। যখন জনগণের নেতৃত্ব তৈরি হয়, আন্দোলনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয় এবং পরিস্থিতি অনুকূলে আসে, তখন পরিকল্পনার প্রয়োজন কমে যায়। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত মেটিকুলাস ডিজাইন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, সিরাজুল আলম খান, তাজউদ্দিন, সিরাজ শিকদার, ভাসানী, এমনকি শেখ মুজিবও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে পরিকল্পনার অংশ ছিলেন। তাহলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পরিকল্পিতভাবে অভ্যুত্থান হলে, এ প্রজন্ম কেনো গর্বিত হবে না?

মাহফুজ দাবি করেন, ৩ জুলাইয়ের ১ দফা ঘোষণার আগ পর্যন্ত কোনো বিদেশি শক্তি বা সামরিক বাহিনীর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা ছিলো না। তিনি উল্লেখ করেন, আগরতলা ষড়যন্ত্রের মতো ন্যায্য পরিকল্পনা যদি ইতিহাসে সম্মানিত হয়, তাহলে এ অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও নেতৃবৃন্দকে অযথা অপবাদ দেয়া উচিত নয়।

তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুটি পর্ব ছিলো— প্রথম পর্ব ৫ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত, যেখানে প্রেক্ষাপট ও নেতৃত্ব তৈরি হয়। দ্বিতীয় পর্ব ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত, যেখানে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আত্মদানে অভ্যুত্থান সফল হয়।

তথ্য উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, ২ আগস্ট রাতেই অভ্যুত্থান সামরিক মোড় নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো, কিন্তু নেতৃত্বের সঠিক দিকনির্দেশনায় তা ঠেকানো যায়। তাই দ্বিতীয় পর্বের প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও বিজয়ের কৃতিত্ব ছাত্র-জনতার হলেও, সুনির্দিষ্ট নেতৃত্ব ও পরিকল্পনা ছাড়া তা সম্ভব হতো না।

তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, ’৬৮-এর ঘেরাও আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান বা ’৭১-এর মার্চের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে মেটিকুলাস ডিজাইনের গুরুত্ব ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহের বাস্তবতা দুটোই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ