বাংলাদেশি পরিচয় নিয়ে টিউলিপের আবারও মিথ্যাচার
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক আবারও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ও পরিচয়পত্র ইস্যুতে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করছে এবং তাকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। টিউলিপ দাবি করেছেন, তার নামে যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানো হচ্ছে, সেগুলো জাল এবং সেগুলোর সব লক্ষণ স্পষ্ট।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেখা যাওয়া নথিপত্রে দাবি করা হয়েছে— ২০০১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে টিউলিপ বাংলাদেশের পাসপোর্ট পান। ২০১১ সালে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রও (এনআইডি) গ্রহণ করেন। এমনকি সে বছর ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট কার্যালয়ে তিনি পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেছিলেন বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে টিউলিপের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এসব তথ্যকে ভুয়া ও রাজনৈতিক অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে বলছে, তিনি কোনও দিন ঢাকায় বসবাস করেননি, জাতীয় পরিচয়পত্র নেননি। শুধু শৈশবে একবার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেয়ার পর আর কখনও তা ব্যবহার করেননি।
সূত্রগুলো আরও দাবি করছে, নথিপত্রে নানা অসংগতি রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, নথিতে দেয়া ঠিকানা ঢাকার একটি বাড়ির, যা টিউলিপের খালা ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালিকানাধীন। এছাড়া পরিচয়পত্রটি নতুন স্মার্টকার্ড ফরম্যাটে নয়, যা তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে।
এমন প্রমাণগুলো বাংলাদেশের একটি চলমান দুর্নীতি মামলায় ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই মামলায় অভিযোগ রয়েছে, টিউলিপ খালা শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে তার মা, ভাই ও বোনের জন্য প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। মামলাটি বর্তমানে টিউলিপের অনুপস্থিতিতে চলছে।
টিউলিপের আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্টিফেনসন হারউড আগেও জানিয়েছে, তিনি কখনো বাংলাদেশের এনআইডি নেননি এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্টও রাখেন না।
উল্লেখ্য, টিউলিপের বাবা-মা দুজনই বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন, ফলে আইনি দিক থেকে তার দ্বৈত নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ও পরিচয় নিয়ে একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন, যা বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছে।
সবার দেশ/কেএম




























