হাইকোর্টে রিট খারিজ
ঋণখেলাপি মান্না লড়তে পারবেন না নির্বাচনে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার অংশগ্রহণের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা তার রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে নির্বাচনি আইনে ঋণখেলাপি হওয়ায় তিনি আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন। আদালতে মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।
৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ও ব্যাংকের নোটিশ
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান ‘আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড’ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা থেকে ২০১০ সালে বিনিয়োগ গ্রহণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত মুনাফা ও কিস্তি পরিশোধ না করায় গত ৩ ডিসেম্বর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বকেয়া আদায়ের জন্য একটি ‘কল ব্যাক নোটিশ’ জারি করে।
প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ শেয়ারের মালিক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বাকি অংশীদারদের ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিশাল বকেয়া পরিশোধের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে তার নাম ঋণখেলাপি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এ তালিকা থেকে নাম বাদ দিতেই তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।
নির্বাচনি আইনি বাধা
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আদালত মান্নার রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী ঋণখেলাপি হলে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিধান রয়েছে। যেহেতু সিআইবি তালিকায় তার নাম থেকে যাচ্ছে, তাই আসন্ন নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি সুযোগ আর থাকল না।
আপিল করার প্রস্তুতি
হাইকোর্টের এ আদেশের পর মাহমুদুর রহমান মান্নার আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া জানিয়েছেন, তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন। খুব দ্রুতই হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে মান্নার মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের এ আইনি জটিলতা নাগরিক ঐক্য তথা রাজনৈতিক ময়দানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয় আপিল বিভাগে তিনি কোনও আইনি প্রতিকার পান কি না।
সবার দেশ/কেএম




























