Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩৮, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ই-রিকশার গতি ও ফি নির্ধারণ

ই-রিকশার গতি ও ফি নির্ধারণ
ছবি: সংগৃহীত

সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে এসব যান চালানো যাবে না। একই সঙ্গে ই-রিকশার নিবন্ধন, নবায়ন, ফিটনেস পরীক্ষা, যাত্রী ধারণক্ষমতা ও কারিগরি নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন বিধিমালা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার জন্য নতুন বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। নিবন্ধন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ ছাড়া কোনও ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হবে প্রতিটি যানবাহনকে।

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার চলাচলের স্থান, গতিসীমা, যাত্রী বহনের সীমা, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি, ফিটনেস সনদ, ব্যাটারি চার্জিং এবং চালকদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ই-রিকশাকে সবসময় সড়কের বাম পাশের লেন দিয়ে চলাচল করতে হবে। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে এসব যান চলতে পারবে না। সাধারণ সড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার হলেও স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।

যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। ই-রিকশার আকার ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।

নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। নির্ধারিত আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। আবেদন ও দাখিল করা নথিপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি ই-রিকশাটি বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। সব শর্ত পূরণ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

যাত্রী ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ই-রিকশার ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে ১ হাজার টাকা।

নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট দেয়া হবে। যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে এসব নম্বর ও প্লেট প্রদর্শন করতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেয়া যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।

বিধিমালা অনুযায়ী, পাঁচ বছর পর ই-রিকশার নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। বর্তমানে সড়কে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও নতুন নিয়মের আওতায় নিবন্ধন নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বুয়েটের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসারে প্রয়োজনীয় নকশা পরিবর্তন করতে হবে। নিবন্ধনবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত কিংবা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোনও ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না।

প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ই-রিকশায় বুয়েট নির্ধারিত মানের যন্ত্রাংশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনে স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে। বিধিমালায় প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাতিল করতে হবে।

ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ই-রিকশার ব্যাটারি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজে চার্জ দিতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় চালকদের জন্য একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা যানবাহনের কাঠামো পরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ সড়ক বা এলাকায় চলাচল বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে ই-রিকশা চালানো এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে যান থামাতে হবে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ই-রিকশার চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নির্ধারিত গতিসীমা কার্যকর, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

কফির বিল আপনার, সঙ্গ দেবেন জয়া!
মধ্যবর্তী নির্বাচনে চাপে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস
ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারে সতর্কবার্তা
লংমার্চ সফল করতে বেনাপোলে জামায়াতের গণমিছিল
১ নভেম্বর সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে না জাহাজ
শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক হাসনাতের
সরকারি বাসা সাবলেটে বরাদ্দ বাতিল
ই-রিকশার গতি ও ফি নির্ধারণ
হেমন্ত সন্ধ্যায় কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরামের মিলনমেলা
ঠাকুরগাঁও-১ এ বিপুল ভোটে বিএনপির ফয়সল জয়ী
মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড
তুরাগ নদে মিললো সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের লাশ
সিনেমায় এখনই ‘না’ নাজনীন নীহার
ভারতের উপকূল পেরিয়েছে অর্ণব, বাংলাদেশে ৩ নম্বর সংকেত