বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্মদিন আজ
দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগে অমর এক বীরের স্মরণে জাতি।
আজ ২৯ অক্টোবর, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের জন্মদিন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ পাওয়া সাত বীরের অন্যতম তিনি। দেশের স্বাধীনতার জন্য তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডে জন্মগ্রহণ করেন মতিউর রহমান। তার বাবা মৌলবি আবদুস সামাদ এবং মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। তাদের পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে।
শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ষষ্ঠ শ্রেণি শেষ করার পর পাকিস্তানের সারগোদায় অবস্থিত বিমানবাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ছোটবেলা থেকেই বিমান চালনার প্রতি আগ্রহ তাকে সামরিক বিমানচালক হওয়ার স্বপ্নের পথে এগিয়ে নেয়।
১৯৬১ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগ দেন মতিউর রহমান। ১৯৬৩ সালে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে ধাপে ধাপে উন্নীত হয়ে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার প্রত্যয়
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন মতিউর রহমান। পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা ও দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। এ সময় তিনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন এবং ভৈরব এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন।
দেশকে শত্রুমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তিনি পাকিস্তানে ফিরে যান। সেখানে অবস্থান করেই একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে বাংলাদেশে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করেন। তার লক্ষ্য ছিলো পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি বিমান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কাজে লাগানো।
বিমান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার চেষ্টা
১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তানের করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে উড্ডয়নের সময় সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেন মতিউর রহমান। তার পরিকল্পনা ছিলো বিমানটি নিয়ে বাংলাদেশে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া।
কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। বিমানটি পাকিস্তানের থাট্টা এলাকায়, ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় শহীদ হন এ সাহসী বাঙালি বৈমানিক। স্বাধীনতার জন্য তার এ দুঃসাহসিক উদ্যোগ তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
আত্মত্যাগে অমর বীর
মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ মতিউর রহমানকে মরণোত্তর ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন হিসেবে তিনি আজও দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মনিবেদনের অনন্য প্রতীক।
তার জীবন নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রতি ভালোবাসা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস এবং জাতীয় স্বার্থে আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়। জন্মদিনে এ বীর সন্তানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায় জাতি।
দেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে যিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন, সেই বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন।
সবার দেশে/এমকেজে




























