জমি বিরোধে রক্তাক্ত সংঘর্ষ—এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি
বীরগঞ্জে বাড়িঘর-মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। বাড়িঘর ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাদেরের ছেলে রেজাউল ও আজগর সাহার ছেলে আজাদের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুই শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তির একটি দল আদিবাসী অধ্যুষিত খ্রিস্টান পাড়ায় হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা শ্মশানসংলগ্ন কালী মন্দির ভেঙে ফেলে এবং প্রতিমা ভাঙচুর করে পাশের ভুট্টাক্ষেতে ফেলে দেয়।
এছাড়া আদিবাসীদের কবরস্থানের প্রায় ৯৩ শতক জমির গাছ কেটে দখলের চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দিলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে গণেশ সরেনের ছেলে বিশ্বনাথ (৩০) বুকে এবং সাবানা মুরমু (২৫) পিঠে তীরবিদ্ধ হন।
এর আগে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলাকারীরা পিউস মুরমুর বাড়িতে ঢুকে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে, নারীদের লাঞ্ছিত করে এবং বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহতদের গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বীরগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জমি বিরোধে আদিবাসীদের হামলায় তারাও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























