জ্বালানি ঘাটতিও তীব্র
গ্যাস সংকটে বন্ধের মুখে ডিএপি সার কারখানা
চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে সার শিল্পে। কাঁচামাল সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে DAP Fertilizer Company Limited (ডিএপিএফসিএল)।
কারখানা সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে অ্যামোনিয়া সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। এ দুই কারখানা থেকেই মূলত অ্যামোনিয়া সরবরাহ পেয়ে থাকে ডিএপিএফসিএল। ফলে তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাঁচামালের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত এই কারখানাটিতে দৈনিক প্রায় ৮০০ টন উৎপাদন সক্ষমতার দুটি ইউনিট থাকলেও বর্তমানে ৬০০ থেকে ৭০০ টন উৎপাদন করা হচ্ছে। তবে মজুদ অ্যামোনিয়া দ্রুত ফুরিয়ে আসায় আগামী সপ্তাহ থেকেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক বলেন বলেন, আমাদের কারখানায় তুলনামূলক কম গ্যাস প্রয়োজন হয়। কিন্তু অ্যামোনিয়া ছাড়া উৎপাদন চালানো সম্ভব নয়। সিইউএফএল ও কাফকো থেকে সরবরাহ না পেলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।”
এদিকে জ্বালানি খাতেও দেখা দিয়েছে তীব্র চাপ। মজুদ কমে যাওয়ায় পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন অপরিশোধিত তেল আনা হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এ। এ তেল দিয়ে অন্তত দুই দিন উৎপাদন চালিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ইস্টার্ন রিফাইনারির দৈনিক গড় পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন হলেও বর্তমান সংকটে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মজুত তেলও ২ হাজার টনের নিচে নেমে এসেছে, যা দিয়ে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালানো সম্ভব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসপিএম প্রকল্প চালুর সময় পাইপলাইনে কিছু তেল জমে থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘদিন প্রকল্প বন্ধ থাকায় সে তেলই এখন বিকল্প মজুদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ৫ হাজার টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করলে ডিজেল, পেট্রল ও জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে, যা বর্তমান সংকটে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের সার উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তা—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























