Sobar Desh | সবার দেশ রংপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:৫৭, ২৩ আগস্ট ২০২৬

মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২

মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের দাবি, নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে মাদক সেবন ও আড্ডা দেয়ার দৃশ্য দেখে ফেলায় ওই পরিবারের চার সদস্যকে একে একে হত্যা করেন দুই যুবক। পরে বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে পালিয়ে যান তারা।

এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটকরা হলেন—সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩)।

রোববার দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান।

ছাদে আড্ডা, তারপর ভয়ংকর পরিণতি

পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই যুবক জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শেষ রাতের দিকে তারা গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে মাদক সেবন ও আড্ডা দিচ্ছিলেন। তারা নিয়মিতই সেখানে এমন কর্মকাণ্ড করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

ওই রাতে তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলেন বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ।

এরপর কোনোভাবে শব্দ পেয়ে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বাইরে বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়।

এক পর্যায়ে মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী বাইরে বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করেন তারা।

সবশেষে ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদের চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

চারজনকে হত্যার পর বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান আটক দুই যুবক।

চারজনের লাশ চার জায়গায়

শনিবার (২২ আগস্ট) দিনগত রাতে পুলিশ অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫) ও তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যের লাশ উদ্ধার করে।

গণপতি চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় তার নিজস্ব দোতলা বাড়ির ছাদে।

তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০) এবং মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থীর (২৫) মরদেহ পড়ে ছিলো ছাদে ওঠার সিঁড়িতে।

আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) লাশ পাওয়া যায় একটি খাটের নিচে।

একই পরিবারের চার সদস্যের লাশ এভাবে বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

কয়েক দিন ধরে তালাবদ্ধ ছিলো বাড়ি

স্থানীয়রা জানান, বাড়িটি কয়েক দিন ধরেই তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিলো। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের কাউকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

শনিবার রাতের দিকে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

পরে নিহতদের স্বজন ও পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

এ সময় বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ও আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়।

ফোন বন্ধ, বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছিলো।

শনিবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সব ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কোনও সাড়া না পেয়ে রাত ৯টার দিকে তিনি স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান।

সেখানে গিয়ে দেখতে পান, বাড়ির প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। এমনকি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জানান তিনি।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে সেখান থেকে কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে।

‘আর কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে’

মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেন, চারজনের হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক পর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়।

তবে এ হত্যাকাণ্ডে শুধু এই দুজনই জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা হত্যার পেছনে আরও কোনো উদ্দেশ্য ছিলো কি না—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অর্থাৎ, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কারণ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেলেও তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

নিহতদের পরিচয়

নিহত গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন তিনি। অবসরের পর রংপুর সমবায় মার্কেটের একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন।

তাঁর মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাস্টার্স সম্পন্ন করে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

আর মাত্র ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম পড়ত রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে।

একটি পরিবারের চার সদস্যের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে রংপুরজুড়ে শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের আটক দুই যুবকের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে এখন বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

মার্কিন প্রতিনিধিদল মোবাইলের আলোয় দেখলেন জুলাই জাদুঘর
সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে নামলে শত্রু ভাববে ইরান
অর্থ কমিটির বৈঠক অকার্যকর করার অভিযোগ হাসনাতের
হরমুজে ভাঙলো মার্কিন শক্তির দম্ভ
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে খরচ
প্রতিশোধ নয়, আত্মসম্মানের লড়াই ছিলো: কামিন্স
মেঘনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে কুপিয়ে জখম
ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
লংমার্চে বাধা এলে প্রতিহত করার ঘোষণা ১১ দলের
মাদক সেবন দেখে ফেলায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা, আটক ২
টেস্টে ইতিহাসের সেরা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান, বহু হতাহতের আশঙ্কা
বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল, পিজিআরের গার্ড অব অনার
‘দুঃখ পেয়েছেন’ চুপ্পু, আমন্ত্রণ পাননি বঙ্গভবনে
আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
দেশে হবে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী