‘জনমত পোলস’-এর জরিপে ফের তৃণমূলের জোয়ার
দু’শ আসন পেয়ে মসনদের পথে মমতা?
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। কে গড়বে সরকার— তৃণমূল কংগ্রেস নাকি ভারতীয় জনতা পার্টি— সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে ভোট গণনার দিন। তবে এর আগেই প্রকাশিত একাধিক বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘জনমত পোলস’-এর জরিপ। সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস আবারও বিপুল ব্যবধানে জয় পেতে যাচ্ছে। এমনকি দলটি ২০০ আসনের কাছাকাছি পৌঁছে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে পারে বলেও আভাস দিয়েছে তারা।
‘জনমত পোলস’-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল পেতে পারে ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন। অন্যদিকে বিজেপির সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ধরা হয়েছে ৮০ থেকে ৯০। এছাড়া ইন্ডিয়া ন্যাশনাল কংগ্রেস পেতে পারে ১ থেকে ৩টি আসন এবং বামফ্রন্ট একটি আসনে জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেতে পারেন ৩ থেকে ৫টি আসন।
একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে ‘পিপলস পালস’ নামের আরেকটি জরিপ সংস্থাও। তাদের হিসাব অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন পেতে পারে। বিজেপি সেখানে ৯৫ থেকে ১১০ আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
‘পিপলস পালস’-এর জরিপে কংগ্রেসকে ১ থেকে ৩টি আসন এবং বামফ্রন্টকে সর্বোচ্চ একটি আসন দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রধান লড়াই যে তৃণমূল ও বিজেপিকে ঘিরেই, সে চিত্রই স্পষ্ট হয়েছে অধিকাংশ সমীক্ষায়।
তবে সব এক্সিট পোল একমুখী নয়। বেশ কয়েকটি জরিপে বিজেপিকে এগিয়ে দেখানো হয়েছে এবং কোথাও কোথাও রাজ্যে পালাবদলের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। কিছু সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
এ কারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতা খুব বেশি নির্ভরযোগ্য নয়, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে। এর আগে একাধিক নির্বাচনে দেখা গেছে, এক্সিট পোলের পূর্বাভাস ও প্রকৃত ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ছিলো।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও অধিকাংশ জরিপ তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে নারী ভোটার, গ্রামীণ জনসমর্থন, সংখ্যালঘু ভোট এবং স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি— এ চারটি বিষয়ই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে বিজেপি ভরসা করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার, জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং পরিবর্তনের বার্তার ওপর।
দুই দফায় অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছি,লো উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিক উত্তেজনা, তীব্র প্রচারণা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘন ঘন সফরে নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছিলো ভিন্ন মাত্রার আগ্রহ।
এখন সব হিসাব-নিকাশের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে। সেদিনই স্পষ্ট হবে— মমতার ঘাসফুল আবারও ফুটবে, নাকি বাংলায় ঘটবে নতুন রাজনৈতিক পালাবদল।
সবার দেশ/কেএম




























