নেপালে জেন-জি’র বিপ্লবে মোদির কপালে চিন্তার ভাঁজ
নেপালে সহিংস বিক্ষোভে ২২ জনের প্রাণহানি ও প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির পদত্যাগ ভারতের জন্য নতুন কূটনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় একের পর এক ফ্যাসিবাদী শাসকের পতন দেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নেপালের অস্থিরতা তার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।
তার প্রশ্রয়ে চারিদিকে বেড়ে ওঠা সব ফ্যাসিস্টের উইকেট একে একে পড়ে যাওয়ায় তিনি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশের বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে মোদি বলেন, নেপালে যে সহিংসতা ঘটেছে তা হৃদয়বিদারক। বহু তরুণের প্রাণহানিতে আমি মর্মাহত। নেপালের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি নেপালের ভাই-বোনদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে তিনি জানান, নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বৈঠকে বসছে।
গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) নেপালের সংসদ ভবনে হামলার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। সহিংসতা বাড়তে থাকায় সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন অঞ্চলে কারফিউ জারি করে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী অলি প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেলের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি লিখেছেন, দেশের সমস্যার সহজ সমাধান এবং সাংবিধানিক রাজনৈতিক পথ সুগম করার জন্যই পদত্যাগ করেছেন। তবে পদত্যাগের পরও আন্দোলন থামেনি। কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা টায়ারে আগুন ধরিয়ে, পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়ে ও রাজনীতিবিদদের বাড়িঘরে হামলা চালান। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, কয়েকজন মন্ত্রীকে সামরিক হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অলির বাসভবন ও প্রশাসনিক ভবন সিংহ দরবারেও আগুন দেয়া হয়। ভারী ধোঁয়ার কারণে কাঠমান্ডুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
অলির পদত্যাগের খবরে তরুণরা সংসদ ভবনের দেয়ালে লিখে দেয়—‘আমরা জিতেছি।’ যদিও আন্দোলনের নেতারা সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, সহিংসতা নয়।
‘জেন জি আন্দোলন’ নামে পরিচিত এ তরুণ বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতি, বৈষম্য ও কর্মসংস্থানের অভাবের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে প্রতি পাঁচজনের একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে এবং তরুণ বেকারত্বের হার ২২ শতাংশের বেশি।
রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর ২০০৮ সাল থেকে নেপাল রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত। গত ১৭ বছরে দেশটিতে ১৪টি সরকার পরিবর্তন হয়েছে, তবে কোনো সরকারই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। অলি গত বছর চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এসেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের এ অস্থিরতা ভারতের কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নেপাল ভারতের ঘনিষ্ঠ হলেও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দিল্লির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সবার দেশে/কেএম




























