Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৪৫, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি বৈঠক 

সাত বড় ইস্যুতে নির্ধারিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ

সাত বড় ইস্যুতে নির্ধারিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ
ছবি: সংগৃহীত

ছয় সপ্তাহের টানা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর চরম উত্তেজনা, অবিশ্বাস ও যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এ প্রথম দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এ বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এ বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক শুরু হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

বৈঠকের আগে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো দুই পক্ষ এক টেবিলে বসে টানা প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করে। পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকটি ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নৈশভোজের বিরতির পর আবার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রথমে ধারণা করা হয়েছিলো, আলোচনা হবে পরোক্ষভাবে। তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দুই দেশ সরাসরি মুখোমুখি আলোচনায় বসে, যা বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যে সাতটি ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব

এ শান্তি আলোচনায় মূলত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছে:

  • প্রথমত, লেবাননে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি। মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রায় দুই হাজার সদস্য নিহত হয়েছে। ইরান চায় লেবানন যুদ্ধবিরতিকে এ চুক্তির অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হোক।
  • দ্বিতীয়ত, ইরানের ওপর আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। তেহরান বলছে, অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে না নিলে কোনও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সম্ভব নয়। ওয়াশিংটন কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত দিলেও এর বিনিময়ে পারমাণবিক ছাড় চাইছে।
  • তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান চায় এ কৌশলগত জলপথে নিজেদের কর্তৃত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ অবশ্যই শর্তহীনভাবে উন্মুক্ত থাকতে হবে।
  • চতুর্থত, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ। ছয় সপ্তাহের সংঘাতে হওয়া সব ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
  • পঞ্চমত, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো আপস হবে না।
  • ষষ্ঠত, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল চায় ইরানের মিসাইল সক্ষমতা কমানো হোক। কিন্তু তেহরান জানিয়েছে, এটি তাদের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তার বিষয়—এ নিয়ে আলোচনা হবে না।
  • সপ্তমত, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি। ইরান চায় অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা হোক এবং ভবিষ্যতে আর কোনও আগ্রাসনের নিশ্চয়তা দেয়া হোক। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা অঞ্চল ছাড়বে না।

৬০০ কোটি ডলার ছাড় নিয়ে জোর গুঞ্জন

আলোচনার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে ইরানের আটকে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কাতারসহ বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা এ অর্থ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

এ অর্থ মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির অর্থ, যা ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে যায়। পরে ২০২৩ সালে বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ের কথা থাকলেও হামাস-ইসরাইল সংঘাতের পর তা আবার স্থগিত হয়।

লেবানন ইস্যুতে আংশিক অগ্রগতি

বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, লেবানন ইস্যুতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ইসরাইল হয়তো তাদের অভিযান দক্ষিণ লেবাননে সীমাবদ্ধ রাখতে রাজি হয়েছে এবং বৈরুতে আর হামলা চালাবে না। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

ইরানি প্রতিনিধিদের প্রতীকী বার্তা

ইরানি প্রতিনিধিরা কালো পোশাক পরে ইসলামাবাদে এসেছেন। তারা সঙ্গে এনেছেন মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি স্কুল শিক্ষার্থীদের জুতা ও ব্যাগ। এটি ছিলো যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরার প্রতীকী প্রতিবাদ।

ইসলামাবাদে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদকে কার্যত রেড জোনে পরিণত করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেরেনা হোটেল ও আশপাশ এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে

বিশ্লেষকদের মতে, এ বৈঠক সফল হলে শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক বিষয়ে বিপরীতমুখী। ফলে শান্তিচুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদের দিকে—এ বৈঠক কি যুদ্ধ থামাবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের আগে শেষ কূটনৈতিক চেষ্টা হয়ে থাকবে?

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

শিরোপার পথ মজবুত করলো বার্সেলোনা
কুকুর-কুমির কাণ্ডে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী
সাত বড় ইস্যুতে নির্ধারিত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ
তেল আছে শুধু সংসদে, দেশে নেই: জামায়াত আমির
বেনাপোল কাস্টমসে ৪ সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স স্থগিত
যশোরে চৈত্রের সকালে অস্বাভাবিক ঘন কুয়াশা
যশোরে দুই কিশোরকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি
ইরানের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে জেডি ভ্যান্স
‘কবি চিতাবাঘ’ দেখতে মহিলা সমিতিতে সপরিবারে প্রধানমন্ত্রী
সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আশা ভোঁসলে
পুকুরে কুমিরের মুখে কুকুর: ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ক্ষোভ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানালেন ডা. কামরুল ইসলাম
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক শুরু
বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েই জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম
কুষ্টিয়ায় মাজারে ভাঙচুর-আগুন, কথিত ‘পীর’ নিহত
বিচারব্যবস্থায় দুই বিল রহিতকরণে ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা