বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ট্রাম্প নীতি বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিতের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের এক ফেডারেল বিচারক। শুক্রবার (২২ আগষ্ট) দেয়া এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে তিনি এ নীতিকে স্পষ্টতই বেআইনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন আইনের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছেন।
ম্যানহাটনের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস রায়ে বলেন, কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অভিবাসন আইন ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের জন্যও স্বস্তির খবর
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতির আওতায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিক পড়েছিলেন। তালিকায় লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়াসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশও ছিলো।
নীতিটি কার্যকর হওয়ার পর এসব দেশের বহু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তাদের স্বজনরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নাগরিকদের স্বজনদের ভিসা পাওয়ার পথ কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
অভিবাসীদের মামলায় আদালতের হস্তক্ষেপ
অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারসহ কয়েকজন ভিসা আবেদনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কয়েকজন নাগরিক এ নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
মামলাকারীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যারা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলো থেকে তাদের স্ত্রী, সন্তান বা অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার জন্য অভিবাসী ভিসার আবেদন করেছিলেন।
বিচারক ভার্গাস তার রায়ে স্পষ্ট করেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে এত বিপুলসংখ্যক দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা থেকে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিতে বড় ধাক্কা
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে অভিবাসী অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, জাতীয়তার ভিত্তিতে ব্যাপকসংখ্যক দেশের নাগরিকদের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ বৈষম্যমূলক এবং আইনবহির্ভূত।
নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতের সর্বশেষ এ রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আদালতের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
সবার দেশ/কেএম




























