এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, বিপাকে ভারতীয়রা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তে এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি এক লাফে ১ লাখ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯০ লাখ) করা হয়েছে। এত বিপুল অঙ্ক গুনতে হবে সেইসব মার্কিন কোম্পানিকে, যারা বিদেশি প্রযুক্তি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ দেয়। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভারতীয়রা।
ভিসা কোটা অপরিবর্তিত, কিন্তু চাপ বাড়ছে
প্রতি বছর লটারি ব্যবস্থায় ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেয়া হয়, যার প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতীয়দের দখলে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন (১১-১২ শতাংশ)। বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ভারতীয় এ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত, অধিকাংশই প্রযুক্তি খাতে।
এতদিন গড় ফি ছিল ২১৫ ডলার, বিশেষ ক্ষেত্রে ৫,০০০ ডলার। নতুন নিয়মে তা বেড়ে দাঁড়াল ২০ থেকে ১০০ গুণ বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় ফি অনেক ক্ষেত্রেই একজন নতুন কর্মীর বার্ষিক বেতনের চেয়েও বেশি, যা পুরো প্রক্রিয়াকে কার্যত অসম্ভব করে তুলবে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
এ ভিসা দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয়দের জন্য উন্নত জীবনের সুযোগ তৈরি করেছে। পরিবারসহ হিসাব করলে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশের সঙ্গে এ ভিসার যোগ রয়েছে। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক শিক্ষিত ও উচ্চ আয়ের অভিবাসী গোষ্ঠী।
ভারতের ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রোসহ প্রযুক্তি জায়ান্টরা যেমন নবীন প্রকৌশলী পাঠাতে এ ভিসার উপর নির্ভর করত, তেমনি অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও ভারতীয় তরুণদের আনার ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
মার্কিন সরকারের ব্যাখ্যা
মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের দাবি, এখন আর বিদেশি ট্রেইনি পাঠানো সম্ভব হবে না। প্রশিক্ষণ দিতে হলে আমেরিকানদেরই প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তার মতে, এর ফলে নিম্ন আয়ের বিদেশি কর্মীদের দ্বারা আমেরিকান চাকরি কেড়ে নেয়া বন্ধ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ আয়ের কর্মী আসবে।
জরুরি নির্দেশনা ও আতঙ্ক
ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ভিসাধারী বা তাদের পরিবার যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন, তবে ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আইন কার্যকর হওয়ার আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফিরতে হবে। নইলে আটকে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের প্রতিক্রিয়া
প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই। তাই এ ভিসার ওপর আঘাত প্রযুক্তি খাতের জন্য ক্ষতিকর হবে। এলন মাস্কও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন সর্বাধিক এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন দিয়েছিল, প্রায় ৪ লাখ। এর দুই-তৃতীয়াংশই ছিলো নবায়ন। অথচ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে বাতিলের হার পৌঁছেছিল ২৪ শতাংশে।
ভারতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ভারতে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কোনো প্রভাবই নেই। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এটিকে “ট্রাম্পের দেওয়া মোদির জন্মদিনের উপহার আখ্যা দিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন।
সম্ভাব্য নতুন বাস্তবতা
কিছু বিশ্লেষকের মতে, এ সিদ্ধান্তে ভারত থেকে প্রতিভা চলে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। এমনকি যারা গিয়েছিলেন তারাও দেশে ফিরে আসতে পারেন। তবে বাস্তবে এটি কতটা ঘটবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
মোদির বক্তব্য
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি ভিসা ফি নিয়ে মন্তব্য না করলেও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এর উপর জোর দিয়েছেন। গুজরাটের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো বিদেশ নির্ভরতা। এ শত্রুকেই একসঙ্গে পরাজিত করতে হবে।
সবার দেশ/কেএম




























