Sobar Desh | সবার দেশ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:৪৭, ১৫ জুন ২০২৬

নাগরিকত্ব যাচাইয়ে অনড় বিজিবি-বিএসএফ

চার শিশুসহ ১২ জন তিন দিন ধরে শূন্যরেখায়

চার শিশুসহ ১২ জন তিন দিন ধরে শূন্যরেখায়

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে শূন্যরেখার একটি পাটক্ষেতে চার শিশুসহ ১২ জন নারী-পুরুষ টানা তিন দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) অবস্থানগত অচলাবস্থার কারণে তারা এখন কার্যত দুই দেশের মাঝখানে আটকা পড়েছেন।

তীব্র রোদ, ভ্যাপসা গরম, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের সংকটের পাশাপাশি সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে দিন-রাত কাটছে তাদের। বিশেষ করে চার শিশুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে উন্মুক্ত পরিবেশে অবস্থান করায় তাদের মধ্যে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার ভোররাতে ভারতের চরমেঘনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফ ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার (পুশইন) চেষ্টা করে। তবে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়ে যান। এরপর থেকে তারা কাঁটাতারের দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন দিন ধরে ওই পরিবারগুলো কার্যত মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। সরকারি বা আন্তর্জাতিক কোনও মানবিক সহায়তা না পেলেও সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

প্রাগপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা সুজন ইসলাম বলেন, পাটক্ষেতের মধ্যে ছোট ছোট শিশুদের কান্না শুনে ঘরে বসে থাকা যায়নি। প্রচণ্ড রোদ আর গরমে ওরা অসহায় অবস্থায় ছিলো। মানবিক কারণে আমরা দূর থেকে রুটি, ছাতু, বিস্কুট ও পানির বোতল পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছি।

আটকে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ জনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের দুই শিশুসহ পাঁচজন, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক শিশুসহ তিনজন, খুলনার ডুমুরিয়ার এক শিশুসহ তিনজন এবং বাগেরহাটের রামপালের একজন রয়েছেন। তাদের কয়েকজন নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্রও প্রদর্শন করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

পরিস্থিতির সমাধানে শনিবার সকালে দৌলতপুরের বিলগাথুয়া সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেন ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা এবং বিএসএফের রাণীনগর ক্যাম্পের সহকারী কমান্ড্যান্ট সুনীল কুমার যাদব।

প্রায় ২০ মিনিটব্যাপী ওই বৈঠকে বিজিবি বিএসএফের বিরুদ্ধে পুশইনের অভিযোগ তুলে কড়া প্রতিবাদ জানায়। তবে বিএসএফ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে, আটকে থাকা ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যদিও এ যাচাই প্রক্রিয়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। আমরা বিএসএফকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, নিয়মতান্ত্রিক যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তবে নারী ও শিশুদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার মধ্যেই সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে পুশইনের একাধিক চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার গভীর রাত এবং রোববার ভোরে প্রাগপুরের বিলগাতুয়া ও মহিষকুণ্ডী সীমান্ত দিয়ে কয়েক দফা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হলেও বিজিবির কড়া অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়।

শুধু কুষ্টিয়াই নয়, একই দিনে দেশের আরও কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-জয়নগর সীমান্তে ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ। একই সীমান্ত এলাকায় জুলফিকার আলী নামে এক বাংলাদেশি যুবককে আটক করে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। পরে তাকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সীমান্তে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। বিজিবির দাবি, বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।

এ ছাড়া জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তেও এক বৃদ্ধকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তাকে পুনরায় ভারতীয় অংশে ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরে কয়েক ঘণ্টা তাকে শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখে বিএসএফ, যা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

তবে সীমান্তের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও একটি মানবিক ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে। ভুলবশত ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করা ১২ বছর বয়সী বাংলাদেশি কিশোরী জয়নব খাতুনকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। শনিবার গভীর রাতে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

রোববার রাত পর্যন্ত দৌলতপুর সীমান্তে আটকে থাকা ১২ জনের ভাগ্য নির্ধারণ হয়নি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে আনলেও মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। শিশুদের কান্না, খাদ্য ও পানির সংকট এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো এসব মানুষের ভবিষ্যৎ এখন দুই দেশের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

চার শিশুসহ ১২ জন তিন দিন ধরে শূন্যরেখায়
এডিবির ঋণে রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার
নোয়াখালীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণ, আটক-১
এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি আলেম সমাজের
নেদারল্যান্ডসকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের
বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত
বেনজীর গ্রেফতার ইন্টারপোলের কৃতিত্ব, দেশের পুলিশের নয়: জামায়াত আমির
বেনজীরকে গ্রেফতার বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ বাতিল
মনিরুল হকের বক্তব্য অমার্জনীয় ও শিষ্টাচারবহির্ভূত: নাহিদ ইসলাম
সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেফতার
মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে ব্রাজিলের হেক্সা অভিযান শুরু
হাসিনাকে পুশইন করুন, দেখি কত সাহস: সীমান্ত ইস্যুতে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে নথিহীনদের সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে ভারত
নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা কি দ্বারপ্রান্তে? রোববার চুক্তির ইঙ্গিত