মনোনয়ন ঘিরে বাড়ছে জল্পনা, আলোচনায় একাধিক নাম
সংরক্ষিত আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটে আলোচনায় যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত-এনসিপি জোটে মনোনয়ন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন, আর এর মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই শতাধিক আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে থাকা জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট তাদের সংসদীয় আসনসংখ্যার ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনে মোট ১৩টি আসন পাচ্ছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী পাবে ১২টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে ১টি আসন।
জামায়াতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। জামায়াতের মহিলা বিভাগ থেকে ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি তালিকা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। তালিকায় শিক্ষক, আইনজীবী ও পেশাজীবী নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ এবং আইনজীবী সাবিকুন্নাহার মুন্নী।
অন্যদিকে, এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি আসন পাওয়ার কথা থাকলেও দলটি জামায়াতের কাছে আরও একটি অতিরিক্ত আসনের দাবি জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে সংসদ নির্বাচনের আগেই জামায়াতের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিলো। দলটির ভেতরে যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা আলমকে সংসদে পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। ২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই, ২৬ এপ্রিল আপিল শুরু, ২৭ ও ২৮ এপ্রিল নিষ্পত্তি, ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।
এদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক তৎপরতা। দলটি ইতোমধ্যে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষ করেছে। শুক্রবার মনোনয়ন বিক্রি উদ্বোধনের সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যারা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে।
তিনি আরও জানান, জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে কার্যকরভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতা—এসব মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এ নির্বাচন তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং জোটের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য, রাজনৈতিক বার্তা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিন্যাসেরও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে।
সবার দেশ/কেএম




























