বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচন
বিপুল ভোটে বিএনপির জয়, অনিয়মের অভিযোগে সরব জামায়াত
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে দুই আসনেই ভোটগ্রহণ ঘিরে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী, যা নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বেসরকারিভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২১৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯০৪ ভোট।
এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৬টি। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচন শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, পুরো ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচিত হন। পরে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিলে সেখানে এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনেও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল। রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ১২৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। এছাড়া বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট।
শেরপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোট চলাকালে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান।
এ অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর মতো কোনও পরিস্থিতি তিনি দেখেননি। দিনভর তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনও অভিযোগও জমা পড়েনি। টেলিফোনে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় ব্যবধানে বিএনপির জয় তাদের সাংগঠনিক শক্তির ইঙ্গিত দিলেও বিরোধী দলের অনিয়মের অভিযোগ ভবিষ্যৎ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























