দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রাত
মহিমান্বিত রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ
আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। মহিমা, পবিত্রতা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের আবহে সূর্যাস্তের পর থেকেই সারা দেশে শুরু হবে এ বরকতময় রজনীর ইবাদত-বন্দেগি। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারা রাত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করবেন।
রমজান মাসের শেষ প্রান্তে এসে মুসলিম উম্মাহ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এ মহিমান্বিত রাতের জন্য। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এটি এমন এক রাত যার মর্যাদা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আর তুমি কি জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ এ এক রাতের ইবাদতের সওয়াব প্রায় তিরাশি বছর চার মাসের ইবাদতের সমতুল্য বলে বিবেচিত হয়।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ রাতে সূর্যাস্তের পর থেকে ফজর পর্যন্ত মহান আল্লাহ তার রহমত ও ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন। ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং বান্দাদের জন্য শান্তি ও কল্যাণের বার্তা বয়ে আনেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলমানদের রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে উপমহাদেশসহ অনেক মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী ২৬ রমজানের দিবাগত রাতটিকেই শবে কদর হিসেবে পালন করা হয়।
এ উপলক্ষে আগামীকাল ২৭ রমজান উপলক্ষে দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শবে কদরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, একবার মহানবী (সা.) সাহাবিদের সামনে বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তির কথা বলেছিলেন, যিনি টানা এক হাজার মাস ইবাদত করেছিলেন। তখন সাহাবিরা চিন্তিত হয়ে পড়েন, কারণ মুসলমানদের গড় আয়ু তুলনামূলকভাবে কম। তখন আল্লাহ তায়ালা এ উম্মতের জন্য লাইলাতুল কদরের মতো এক বরকতময় রাত দান করেন, যাতে অল্প সময়ে অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায়।
‘শবে কদর’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা বা ভাগ্য। তাই এটিকে ভাগ্য নির্ধারণের রাত বা মর্যাদার রাত হিসেবেও অভিহিত করা হয়। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে মানুষের ভাগ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং আল্লাহর রহমত বিশেষভাবে নাজিল হয়।
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। এক বাণীতে তিনি বলেন, এ রাতে ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, লাইলাতুল কদরের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।
দেশের বিভিন্ন মসজিদে আজ রাতে বিশেষ ইবাদত, কোরআন খতম, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। মাগরিবের নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান শবে কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে আলোচনা করবেন।
এদিকে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান এ রাতে কবরস্থানে গিয়ে প্রয়াত স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং নিজের ও পরিবারের জন্য ক্ষমা ও কল্যাণের দোয়া করেন।
ইসলামী বর্ণনায় লাইলাতুল কদরের রাতে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার ও দোয়া করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী (সা.) এই রাতে পড়ার জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন—
আরবি: اللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি তো ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।
এছাড়া ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া ‘সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার’, জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া, মা-বাবার জন্য দোয়া এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনার দোয়াগুলোও এ রাতে বেশি বেশি পড়ার জন্য আলেমরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতো বাংলাদেশেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আজকের এ পবিত্র রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় মসজিদ ও ঘরে ঘরে জেগে থাকবেন।
সবার দেশ/কেএম




























