Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:০২, ২২ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০০:০২, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, ঘাটজুড়ে বিদায়ের আবেগ

বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, ঘাটজুড়ে বিদায়ের আবেগ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর পুরান ঢাকার সদরঘাট-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গার বিসর্জন ঘাট। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে প্রিয় দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর আবেগে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। একের পর এক মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রায় ঘাটে আসছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরে নৌযানে তুলে নদীর জলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামতেই বুড়িগঙ্গার বিসর্জন ঘাটে ভিড় বাড়তে থাকে। প্রতিমা নিয়ে ঘাটে পৌঁছানোর পর শুরু হয় বিসর্জনের প্রস্তুতি। ঢাকের তালে তালে ভক্তদের পদচারণা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে পুরো এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

এ সময় অনেক ভক্তকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়। কেউ শেষবারের মতো দেবী দুর্গার মুখের দিকে তাকিয়ে প্রণাম করেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখেন। আবার কেউ প্রতিমা বিসর্জনের মুহূর্তে হাতজোড় করে প্রার্থনা করেন। আনন্দের উৎসব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী বছর আবার দেবীর আগমনের প্রত্যাশাও প্রকাশ করেন অনেকে।

বিসর্জন ঘিরে নদী ও আশপাশের সড়কে ছিল বাড়তি সতর্কতা। প্রতিমা বহনকারী নৌযানের চলাচল, ঘাটে মানুষের ভিড় এবং সড়কে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে দায়িত্ব পালন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিমা নিয়ে আসা থেকে শুরু করে নৌযানে ওঠানো এবং বিসর্জন পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে নেয়া হয় বিভিন্ন ব্যবস্থা।

রাত ১০টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত ৫৫টি প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসর্জন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ। তাদের হিসাব অনুযায়ী, গতবারের তুলনায় এবার ঢাকা মহানগরে এক হাজারের বেশি প্রতিমা বিসর্জন হতে পারে। রাত পেরিয়ে ভোর পর্যন্ত বিসর্জন কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে।

তিন প্রবেশপথ, ১৬ নৌযানে বিসর্জনের ব্যবস্থা

বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সদরঘাট এলাকায় তিনটি প্রবেশপথ দিয়ে প্রতিমা নিয়ে ঘাটে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পর্যায়ক্রমে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ১৬টি নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতি মিনিটে তিনটি প্রতিমা বিসর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

নৌযানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি নৌকায় সর্বোচ্চ ১২ জনকে ওঠার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে প্রতিমা বহনকারী দলগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর কোতোয়ালি থানা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিসর্জন ঘাটে মানুষের ভিড় ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে প্রতিমা প্রবেশ এবং নৌযানে ওঠানামার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা সাঁতার জানেন না, তাদের নৌকায় না ওঠার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বুড়িগঙ্গার ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক আয়োজন। তবে উৎসবের রেশ, ঢাকের শব্দ আর বিদায়ের মুহূর্তের আবেগ ছাপ রেখে যাচ্ছে ভক্তদের মনে। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে আগামী বছর আবারও তাঁর আগমনের অপেক্ষায় থাকবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত
৩১ অক্টোবর জামায়াতের লংমার্চ, শুরু বায়তুল মোকাররমে
ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে, অভিজ্ঞতা কম: মনি
পণ্যবাহী গাড়ি আটকে লুট-চাঁদাবাজি, ছাত্রদলের ৮ জনকে শোকজ
রাশিয়ার এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলট অক্ষত
বয়স্কভাতার টিপসইয়ে জমি হাতছাড়া বৃদ্ধের
ডিভি লটারি চালুর আদেশ স্থগিত চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল
পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া বাসায় মাসে ২২টি ডিজে পার্টি
লাকসামে ট্রেন লাইনচ্যুত, সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার শুরু
নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি-মন্ত্রী, দুর্নীতিবাজরা নেতা হন: স্পিকার
আসামে বাঙালি মুসলমানদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদে নাহিদ ইসলামের নিন্দা
ভারতে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, ভাঙা হলো মসজিদও
বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, ঘাটজুড়ে বিদায়ের আবেগ
বার্সেলোনা নয়, আমরাই সেরা: পিএসজি
সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ফের বন্ধ ঘোষণা
ঢাকায় ৪র্থ SQAT Bangladesh: অংশ নিচ্ছেন ISTQB’র বর্তমান ও সাবেক গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট