‘জয় বাংলা’ স্লোগানে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা
হাজারো মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে চট্টগ্রামে শেষ বিদায় জানানো হলো বর্ষীয়ান রাজনীতিক, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন-কে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবী ও সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। পরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে তাকে শেষ বিদায় জানান দলীয় সমর্থক ও অনুসারীরা।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রয়াত নেতার বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সমুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
এর আগে মরদেহ জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় কফিন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান।
জানাজা শেষে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স মাঠ ত্যাগ করার সময় নেতাকর্মীরা ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
জানাজা শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক জীবন ছিলো বর্ণাঢ্য। বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে তার সঙ্গে স্মৃতি রয়েছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি বহু উদ্যোগ নিয়েছেন এবং মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।
প্রয়াত নেতার ছেলে সাবেদুর রহমান সমু বলেন, দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তার বাবা মারা গেছেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছেন। সবার কাছে তিনি বাবার জন্য দোয়া চান।
১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ছাত্রজীবনেই তিনি ছয় দফা আন্দোলনে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম সদস্য ছিলেন এ রাজনীতিক।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বিভিন্ন সময়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পান।
ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























