ক্রাইমজোন শহরের শংকরপুর
যশোরে দুই কিশোরকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি
যশোর শহরের রেলগেট এলাকা—যা অনেকের কাছে এখন ‘ক্রাইমজোন’ হিসেবে পরিচিত—সেখানেই ঘটেছে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। দুই কিশোরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ও নির্মম মারধরের অভিযোগ উঠেছে একটি কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু তালেব (৫২) এবং মৃত হায়দার আলীর ছেলে সুমন (৩২) পৃথক অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১০ অক্টোবর শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে তাদের ছেলে জিহান (১৬) ও আব্দুর রহমান (১৫) বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তারা রেলগেট মডেল মসজিদের সামনে পৌঁছালে হঠাৎই কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য তাদের পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। পরে রেলগেট পশ্চিম মাঠপাড়ার বিল্লালের মাঠ সংলগ্ন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সেখানে দুই কিশোরকে খুনের ভয় দেখিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কিল-ঘুষি মারা হয়। মারধরে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এরপর অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এদিকে সন্তানের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শুরু করেন মরিয়া অনুসন্ধান। একপর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা ওই ভবনের সন্ধান পেয়ে সেখানে পৌঁছান এবং দুই কিশোরকে উদ্ধার করেন। তবে পরিবারের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
উদ্ধারের পর আহত দুই কিশোরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার কোতয়ালী মডেল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে—রেলগেট এলাকার শাহিনের ছেলে ছাদি (২৩), জ্যোৎস্নার ছেলে শান্ত (২৩), আব্দুল মতিনের ছেলে আকাশ (২০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন।
এ বিষয়ে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে—যশোর শহরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কতটা নিয়ন্ত্রণে আছে? স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এমন অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























