Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:২৬, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

চকচকে জীবন, ভেতরে প্রতারণার জাল

ফাঁদ পেতে গাড়ি-টাকা হাতিয়ে নেয়া দম্পতি গ্রেফতার

ফাঁদ পেতে গাড়ি-টাকা হাতিয়ে নেয়া দম্পতি গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

চকচকে পোশাক, দামি ফোন, আভিজাত্যপূর্ণ আচরণ— বাইরে থেকে দেখে কেউ ভাবতেই পারবে না, এরা পেশাদার প্রতারক। কিন্তু রাজধানীর এ তরুণ–তরুণী দম্পতি, নিয়াজুর রহমান নিওন ও শবনম শারমিন, আসলে এক সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্রের মূলহোতা।

নিয়াজুর পড়েছেন রাজধানীর নর্থ–সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, আর তার স্ত্রী শবনম পড়েছেন শান্তা–মারিয়ামে। দুজনেরই জীবনযাত্রা অভিজাত পরিবারের মতো। দুই–তিন মাসের বেশি কোনও বাসায় থাকেন না— কারণ এর মধ্যেই কাউকে ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেন নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ কিংবা দামি গাড়ি। এরপর গা-ঢাকা দেন নতুন এলাকায়।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ অক্টোবর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রক্সিমা বায়িং হাউসের মালিক আলী নূর ইসলাম জীবনকে টার্গেট করেন নিয়াজুর ও তার সহযোগীরা। ব্যবসার প্রস্তাব দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে তাকে জিম্মি করা হয়। পরে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়, আর না পেলে শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ এবং একটি টয়োটা গাড়ি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারক চক্রটি।

ঘটনার পর ভাটারা থানায় মামলা হয়, এবং পুলিশ যশোর থেকে গাড়িসহ নিয়াজুর ও তার স্ত্রী শবনমকে গ্রেফতার করে।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও ভয়ঙ্কর চিত্র। নিয়াজুর বছরখানেক আগে কয়েকজন তরুণীকে ব্যবহার করে একটি চক্র গড়ে তোলে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশার মানুষকে টার্গেট করে— কেউকে ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার প্রলোভন, কেউকে বন্ধুত্ব কিংবা সম্পর্কের জালে ফেলে প্রতারণা করতো।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ চক্রের সঙ্গে তামান্না নামে আরও এক তরুণী জড়িত আছেন। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।

পুলিশের তথ্যমতে, এর আগেও নিয়াজুর একই এলাকায় আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি রেঞ্জ রোভার গাড়ি হাতিয়ে নিয়েছিলেন। গাড়িটি উদ্ধার হলেও তখন তিনি পালিয়ে যান।

গ্রেফতার হওয়ার আগে শেষবারের মতো তারা বসুন্ধরা থেকে পালিয়ে গাজীপুর, সাভার হয়ে যশোরে যায়। যশোরের কোতোয়ালি এলাকায় তারা নতুন বাসা ও একটি গ্যারেজ ভাড়া নেয়, যেখানে তারা লুকিয়ে ছিলো।

ভাটারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিয়াজুর ও তার চক্র অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সংগঠিত। তরুণীদের ব্যবহার করে তারা ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এমনকি প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করত। আরও কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলী নূর ইসলাম বলেন, নিয়াজুর অত্যন্ত ধূর্ত। বায়িং হাউজের স্যাম্পল দেখানোর কথা বলে আমাকে বাসায় নিয়ে আটকে রাখে। এরপর টাকা, মোবাইল ফোন ও গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশের ধারণা, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় এ চক্রের একাধিক প্রতারণার শিকার রয়েছেন, যাদের অনেকেই সামাজিক সম্মান হারানোর ভয়ে অভিযোগ করেননি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন