বাম্পার ফলনেও লোকসানে কৃষক
ধানের দাম ৮০০, শ্রমিকের মজুরি ১২০০
জামালপুরে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচ, শ্রমিক সংকট ও কম বাজারদরের চাপে চরম হতাশায় দিন কাটছে চাষিদের। মাঠজুড়ে সোনালি ধান থাকলেও সেই ধান ঘরে তুলতেই গুনতে হচ্ছে বড় অঙ্কের লোকসান।
ধানের মণ ৮০০ টাকা, আর একজন শ্রমিকের মজুরি ১২০০ টাকা। তাহলে আমরা খামু কি, আর বেচমুই বা কি?—আক্ষেপভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলেন নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে নিজের লোকসানের হিসাব মিলাচ্ছিলেন তিনি।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যার খরচের পাশাপাশি এবার সবচেয়ে বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিকের মজুরি।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বিঘা জমির ধান কাটতে অন্তত আটজন শ্রমিক লাগে। প্রতিজনের মজুরি ১২০০ টাকা হওয়ায় শুধু ধান কাটতেই ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় গড়ে ২৪ থেকে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও বর্তমান বাজারদরে সেই ধান বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো।
এ অবস্থায় প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকদের ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, সব খরচ মিটিয়ে আসল টাকাই উঠছে না, লাভ তো দূরের কথা।
একই উপজেলার কৃষক সুরুজ মিয়া জানান, বহু বছর ধরে চাষাবাদ করলেও এমন সংকট আগে দেখেননি। তিনি বলেন,
সবকিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু ধানের দাম বাড়ছে না। ৯ বিঘা জমির ওপর আমার সংসার চলে, এবার কী হবে আল্লাহই জানেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর–এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জামালপুর জেলায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু বাজারমূল্যের কারণে কৃষকদের হতাশা বাড়ছে।
জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেনো এখনই সব ধান বিক্রি না করেন। এক থেকে দুই মাস অপেক্ষা করলে ভালো দাম পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করলে বাজারের চেয়ে বেশি দাম মিলবে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, কৃষকরা যদি পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করেন, তাহলে প্রশাসনের সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমিত।
সবার দেশ/কেএম




























