অপরাধ-বিশ্বাসঘাতকতার হৃদয়বিদারক গল্প
স্ত্রীর কিডনি নিয়ে সুস্থ হয়েই পরকীয়ায় মত্ত স্বামী
স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিয়েছিলেন উম্মে সাহেদীনা টুনি। ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ থেকে নিজেকে নিঃশেষ করে তিনি এগিয়ে এসেছিলেন মৃত্যুপথযাত্রী তারেকের পাশে। কিন্তু সুস্থ হয়েই সে স্বামী পাল্টে গেলেন ভয়ঙ্কর রূপে। জড়িয়ে পড়লেন পরকীয়া, অনলাইন জুয়া আর শুরু করলেন স্ত্রীর ওপর পাশবিক নির্যাতন।
সাভারের কলমা এলাকায় ঘটেছে এ অমানবিক, হৃদয়বিদারক ঘটনা। নির্যাতনের শিকার টুনি থানায় ও আদালতে মামলা করেছেন। স্বামী তারেক জামিনে মুক্ত হয়ে ফের গা-ঢাকা দিয়েছেন, থাকছেন পরকীয়া প্রেমিকার বাসায়।

ভালোবাসা থেকে শুরু, শেষ হলো প্রতারণায়
২০০৬ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় টুনি ও মালয়েশিয়া প্রবাসী তারেকের। এক বছরের মাথায় তাদের সংসারে আসে এক পুত্রসন্তান। তখনই হঠাৎ জানা যায়, তারেকের দুটি কিডনিই প্রায় অচল। বাঁচার একমাত্র উপায় ডায়ালাইসিস কিংবা কিডনি প্রতিস্থাপন।
অসুস্থ স্বামীর জন্য টুনি শুরু করেন জীবনযুদ্ধ। ঢাকায় নিজ বাড়িতে চালু করেন বিউটি পার্লার, বুটিকসের ব্যবসা। সংসার, সন্তান, নিজের আয়-সবকিছুই খরচ করেন স্বামীর চিকিৎসায়। ১০ বছর ধরে চলে ভারতে চিকিৎসা। অবশেষে ২০১৯ সালে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে নিজের কিডনি দিয়েই স্বামীর জীবন বাঁচান তিনি।

কৃতজ্ঞতার বদলে নির্যাতন
কিডনি প্রতিস্থাপনের পরপরই পাল্টে যান তারেক। হাসপাতালেই স্ত্রীর ওপর শুরু হয় চিৎকার, অপমান। দেশে ফিরে টুনির ওপর নেমে আসে নরক। অনলাইনে জুয়া, পরকীয়া আর অর্থের জন্য চাপ দিতে থাকেন তারেক। স্ত্রীকে মারধর করেন, বাড়ি নিজের নামে লিখে দেয়ার জন্য হুমকি দেন।
আইনি লড়াই ও প্রতারকের জামিন
একাধিকবার নির্যাতনের পর টুনি থানায় ও আদালতে মামলা করেন। তারেক গ্রেফতারও হন। তবে এক মাসের মাথায় জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের প্রেমিকার কাছে গিয়ে ওঠেন। স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
প্রতিবেশী ও পরিবারের সাক্ষ্য
প্রতিবেশীরা জানান, টুনি তারেকের জন্য জীবনের সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন। এমনকি নিজের মা-বাবার সহায়সম্পত্তিও স্বামীর চিকিৎসায় ব্যয় করেছেন। কিন্তু সুস্থ হয়েই তারেক যে প্রতারণা করেছেন, তা শুধু স্ত্রীর নয়, গোটা সমাজের বিবেককে আঘাত করেছে।

আইনজীবীর পরামর্শ
টুনির আইনজীবীরা বলছেন, কেবল নারী নির্যাতনের মামলাই নয়, মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে প্রতারণার অভিযোগেও মামলা করতে পারেন টুনি। আদালতের কাছে সুরক্ষা আদেশও চাইতে পারেন তিনি।
প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবি
টুনির পরিবার ও সমাজ সচেতন মহল এমন অকৃতজ্ঞ, প্রতারক স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। যেন আর কোনও নারী ভালোবাসার বিনিময়ে এমন নিষ্ঠুর প্রতারণার শিকার না হন।
প্রতারকের হদিস নেই
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই তারেক পলাতক। ফোন নম্বরও পরিবর্তন করেছেন। তার পরিবার এবং আইনজীবীরাও মুখ খুলতে রাজি নন।
সমাজের প্রতি প্রশ্ন
একজন নারী নিজের জীবন বিপন্ন করে স্বামীকে বাঁচালেন। কিন্তু সে পুরুষ সুস্থ হয়েই যদি ভালোবাসার বদলে প্রতারণা করেন, তাহলে সমাজে আস্থার জায়গাটা কোথায় থাকবে? টুনির এ ঘটনা যেন প্রতিটি নারীর জন্য সতর্কবার্তা। ভালোবাসার নামে যেন কেউ ঠকে না যায়।
সবার দেশ/কেএম




























